লেখা

অতঃপর ‘হিউম্যানিজম’কে ‘রেসিজম’ আখ্যায়িত করলে ব্লাসফেমির অপরাধ হবে?
অতঃপর ‘হিউম্যানিজম’কে ‘রেসিজম’ আখ্যায়িত করলে ব্লাসফেমির অপরাধ হবে?
০৭ মার্চ ২০১৭
হিউম্যানিজমের গর্ভ হইতে যে ইউরোপিয়ান রেনেসার প্রসব তার হাত দিয়াই ডিহিউমানাইজেশন সব চেয়ে বেশি হইছে-এইটা নিয়া একাডেমিয়ার জগতে বহুত প্যাচাল আর তর্কাতর্কি চলে।আফ্রিকানদের দাস বানানো, পরভুমি দখল কইরা কলোনি বানানো বা আদিবাসিদের মাইরা সাফ কইরা সভ্যতার আলো ছড়ানো প্রভৃতি ইতিহাসের দিকে তাকাইলে এটা বুঝতে অবশ্য আমাদের এত ক্যাচালের মধ্যে না গেলেও চলে। কিন্তু কথা হইল- হিউম্যানিজমের উপর খাড়াইয়া এই যে দুনিয়াব্যাপী ডিহিউম্যানাইজড কাম-কাইজ, এইটারে অনেকেই হিউম্যানিজমের ইনকনসিস্টেন্সী আকারে দেইখা থাকেন।কিন্তু আমার কাছে এটারে ইনকন্সিস্টেন্সি বলে মনে হয়না - এইটা বরং হিউম্যানিজমরে গোড়া বা শুরুর জায়গা থেকে পাঠের ব্যর্থতা বইলা মনে হয়।কারণ মনে রাখাটা জরুরী- হিউম্যানিজমের লগে আরেকটা জিনিস আছে সেইটা হইল- ইন্ডিভিজুয়ালিজম।
 
সুতরাং আপনি যদি হিউমানিজমরে কালেক্টিভ হিউমান স্বার্থ রক্ষার জায়গা দিয়া বিচার করেন তাইলে আপনে আসলে সুতার গোড়া না ধইরা মাঝখান ধইরা টানাটানি শুরু করছেন।কারণ হিঊমানিজম শুরু হয় ব্যক্তিরে দিয়া।অতএব, সবার উপর মানুষ সত্য- হিউম্যানিজমের এই যে স্লোগান এটার শুরু হবে- সবার উপর আমি সত্য তার উপর নাই, এইটা দিয়া।এরপর ধরেন আসবে- সবার উপর আমি আর আমার পরিবার সত্য তার উপর নাই।এই রকম ধারাবাহিকভাবে এক সময় আসবে- সবার উপর সাদা ইউরোপিয়ান সত্য তার উপর নাই।
 
এই লাইনে চিন্তা কইরা দেখেন কোন ইনকন্সিস্টেন্সি পাইবেননা।।সুতরাং ইউরোপিয়ানরা যখন আফ্রিকানদের দাস বানায় বা অন্যদেশ রে কলোনি বানাইয়া লুটপাট করে, অথবা মেকানাইজেশন আর ইণ্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন কইরা প্রকৃতির বারোটা বাজায় তখন হিমানিজম থিঊরির লংঘন হয়না বরং এটার সঠিক এবং অথেন্টিক প্রয়োগ হয়।ওয়েস্টার্ন সমাজে যে সেন্স অব এলিয়েনেশন অথবা কালোদের সঙ্গে রেসিজম- এর কোনটা্র মধ্যেই আর কোন অসঙ্গতি পাইবেননা। এমনকি ইউরোপিয়ানদের হাত ধইরা নেশন স্টেটের যে উদ্ভব সেটাও যে এই এনলাইটেনমেন্ট থিঊরিরই একটা অনিবার্য পরিণতি ছাড়া কিছু নয় সেটাও পরিস্কার হবে। কারণ- সবার উপর আমার জাতি বড় তার উপর নাই।
 
সুতরাং ট্রাম্প যখন বলে- আমেরিকা ফার্স্ট বা সবার ঊপর আমেরিকা সত্য তখন লিবারাল আমিরিকান কিংবা ভিন্ন দেশি ইউরোপিয়ানরা হাঊ-কাঊ ক্যান করে এইটা বরং আমার কাছে ধাঁধা মনে হয়।অনেক চিন্তা কইরাও এটার সমাধান পাইলাম না।ট্রাম্প যা করতেছে বা বলতেছে তার লগে ইঊরোপীয় রেনেসা আর এনলাইটেন্ট ভ্যালুর কোন বিট্রায়াল তো নাইই ববং রিলিজিয়াস অথেন্টিসিটি আছে।
 
অতএব, চলেন আমরা সবাই ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী হিউমানিস্ট হই। আর বলি- সবার উপর আমি সত্য তার উপর নাই।অথবা সকল দেশের রাণী সে যে.........। তবে আমেরিকা আপনারে ভিসা না দিলে বা বাইর কইরা দিলে ফাঊল ফাঊল চিৎকার কইরা ভেউ ভেউ করতে যেন না দেখি।খেলতে নাইমা খেলার মাঝখানে আপনার সুবিধা মত খেলার নিয়ম বদলাইতে কইবেন- দুনিয়াডারে মগের মুল্লুক পাইছেন?