লেখা

আনিসুজ্জামানের লিগেসির সন্ধানেঃ বিসর্জনও বুদ্ধিজীবি হয়ে ওঠার তরিকা
আনিসুজ্জামানের লিগেসির সন্ধানেঃ বিসর্জনও বুদ্ধিজীবি হয়ে ওঠার তরিকা
১৭ মে ২০২০

পা

আনিসুজ্জামানের বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান আসলে কি সেটা অনেকের মত আমারও জানবার ইচ্ছা। তবে একটা জিনিস বুঝতে পারছি জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাকের মত তাকে অনেক জ্ঞানি বুদ্ধিজীবি মনে করা হয়। আবার দুইজনই জাতীয় অধ্যাপকl আবার জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় ফুল, ফলের মত অধ্যাপক ব্যাপারটাকে জাতীয়করণ করা যায় সেটাও বেশ ইন্টারেস্টিং।

তবে সমস্যা হল আনিসুজ্জামানের মত আব্দুর রাজ্জাকের অবদানটা কি সেটাও এখনব্দি জানা হয়ে ওঠেনি। হুমায়ুন আহমেদ ও ব্যাপারটা বুঝতে পারেননি। তিনি অনেক চিন্তার পর বুঝতে পারলেন আব্দুর রাজ্জাক একটা কাজ ভাল পারেন সেটা হল দাবা খেলা। কিন্তু সেখানেও দেখা গেল- হুমায়ন আহমেদের সাথে প্রথম খেলায়ই হেরে বসে আছেন।

তবে বিষয়টা যত জটিল মনে হয় আসলে ততটা না । এখনে মূল বিষয় হল ত্যাগ কিংবা বিসর্জন। আর এই ত্যাগ বা বিসর্জনের চেতনা আপনে জাগায়া তুলতে পারলে আপনি নিজেও একদিন জাতীয় অধ্যাপক হয়ে উঠবেন।। যেমন ধরেন আব্দুর রাজ্জাক হ্যারল্ড লাস্কির অধীনে পিএইচডি করতেছিলেন। লাস্কি মারা যাওয়ার পর সব কিছু বিসর্জন দিয়ে শোকে-দুঃখে দেশে ফেরেন। আর তার এই বিসর্জনের বদৌলতে তিনি এই দেশে জ্ঞান তাপস জাতীয় অধ্যাপক হয়ে ওঠেন। একই ভাবে যারা লেখা পড়া বিসর্জন দিয়ে, গবেষনা বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষে কাজ করেন তারাই এই দেশে নাম করা বুদ্ধিজীবি হন।

তবে আনিসুজ্জামানের বিসর্জনের লেভেল কোন ভাবে আব্দুর রাজ্জাকের সাথে তুলনীয় নয়। ফলে আপনি- আমি আব্দুর রাজ্জাক হয়ে উঠতে পারলেও আনিসুজ্জামান হয়ে উঠার কোন আশা নাই। কারণ তিনি এ অঞ্চলের স্বাতন্ত্র্যকে বিসর্জন দিয়ে কলকাতা কেন্দ্রিক নন্দন তত্ত্ব, শিল্প- সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে এ অঞ্চলের বিষয় বলে চালিয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে যে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন অতটা বিসর্জন দিতে আপনারা পারবেন বলে মনে হয়না। আলাদা স্বার্বভৌম দেশ হওয়া স্বত্তেও, এবং কলকাতার বর্ণবাদী হিন্দুত্ববাদ দিয়ে বাঙালি মুসলিমদের ঐতিহাসিকভাবে নিপীড়িত হওয়ার ইতিহাসকে ভুলিয়ে দিয়ে কলকাতার হিন্দু বাঙালিত্বকে পূর্ব বাংলার বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলে চালিয়ে দেয়ার মত ক্ষমতা অর্জন করতে নিজেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় সেটা আমি আপনি ভাবতেও পারব না।

তার এই বিসর্জনের একটা উদাহরণ হল- বাংলা ভাষা প্রমিত করণে তার অবদান। আর এই প্রমিতকরণে এই বাংলার কোন বিশেষত্বকেই আমলে নেয়া হয়নি। কলকাতার অন্ধ অনুকরণে কলকাতার বাংলাকেই আমাদের প্রমিত বাংলা বলে চালিয়ে দিয়েছেন। আপনি অবাক হয়ে ভাবতে পারেন- তাহলে এখানে ওনার অবদানটা কি? ওনিতো কলকাতা থেকে স্রেফ কপি করেছেন। উত্তর হইল- ভাইরে আপনি খালি আছেন স্কলারশিপ নিয়া। এ সবের দিকে না তাকাইয়া ওনার বিসর্জনের দিকে তাকান।

ওনার এই ইউনিক বিসর্জনের ফল ও ওনি হাতে নাতে পাইছেন। আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন কেবল বাংলার জাতীয় অধ্যাপক। অন্যদিকে অনিসুজ্জামান শুধু বাংলাদেশের না ভারতেরও জাতীয় অধ্যাপক । পদ্মভূষণ জাতীয় অধ্যাপকের চেয়ে কম সম্মানের না বরং আরো বেশি হইতে পারে।

তবে ওনাকে টপকানো একেবারে অসম্ভব তারও গ্যারান্টি দেয়া যায়না। এ দেশের বুদ্ধিজীবিরা যে রকম প্রতিভাবান তাতে বিসর্জনের যে কোন লেভেল তারা অতিক্রম করলে অবাক না হওয়াই ভাল।