লেখা

সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষাঃ একটি অবাস্তব ও বিপজ্জনক ধারণা।
সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষাঃ একটি অবাস্তব ও বিপজ্জনক ধারণা।
০১ মে ২০১৬

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সম্মান প্রথম বর্ষ ভর্তিপরীক্ষার ফল বিপর্যয়ের ব্যাপারে সারা দেশে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নিয়েছে। কেউ বলছেন, এর মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত প্রস্তুতি গ্রহণ না করার ব্যাপার ফুটে উঠেছে। কেউ বলছেন, বোর্ড পরীক্ষায় পাশের হার ও জিপিএ ৫ এর সংখ্যাবৃদ্ধির ওপর জোর দেয়ার কারণে, ফলশ্রুতিতে শিক্ষার্থীরা সহজে ভালো ফলাফল করতে পারার কারণে, মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের বশবর্তী হয়ে ভর্তিপরীক্ষার গুরুত্ব ও বাস্তবতা সঠিকভাবে অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়ে ভর্তিপরীক্ষায় খারাপ করছে। অবশ্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দাবি করেছেন, শিক্ষার মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষা ত্রুটিপূর্ণ বিধায় পরীক্ষার্থীরা খারাপ ফলাফল করছে। যদিও মাননীয় মন্ত্রীর এ দাবিকে বাস্তবতা ও পরিসংখ্যান সমর্থন করে না। আজ থেকে ৭/৮ বছর আগেও ঢাবির ভর্তিপরীক্ষায় পাশের গড় হার শতকরা ৫০ ভাগের কাছাকাছি ছিলো। বিগত পাঁচ-ছয় বছর ধরে বোর্ড পরীক্ষায় পাশের হার ও জিপিএ ৫ এর সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধির সাথে ঢাবি ভর্তিপরীক্ষায় পাশের হারের সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিকভাবে এগিয়েছে। ভর্তিপরীক্ষায় পাশের হার বনাম বোর্ড পরীক্ষায় পাশের হার ও জিপিএ ৫ এর সংখ্যাবৃদ্ধির তুলনামূলক গ্রাফের দিকে দৃষ্টিপাত করলেই এ দাবির সত্যতা মেলে। বর্তমান সময়ে জিপিএ ৫ পাওয়া লক্ষ লক্ষ মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি পরীক্ষায় পাশ মার্কসই তুলতে পারছে না! ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্যের পরিমাণ ছিল ৮১%, ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে ৮৩%, ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষে ৮১%, ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে ৮৪% এবং সর্বশেষ ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষে ৮৩%। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৫৬ শতাংশ পাস নম্বর তুলতে ব্যর্থ হয়। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে এই সংখ্যা ছিলো ৫৫ ভাগ এবং ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে ৫৩ ভাগ। অর্থাৎ, ভর্তি পরীক্ষা প্রক্রিয়া একই থাকলেও প্রতিবছর বোর্ড পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পাওয়া ও ভর্তি পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছেই। সেক্ষেত্রে, ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতিকে দোষারোপ করার মধ্য দিয়ে বোর্ড পরীক্ষার ফলাফল ও ভর্তিপরীক্ষার ফলাফলের মাঝে নিহিত প্যাটার্ণ ও ‘লং টার্ম’ ট্রেন্ডকে অস্বীকার করা যাবে না।

 

সম্মান প্রথম বর্ষে ভর্তির ক্ষেত্রে সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে অধ্যাপক জাফর ইকবাল দীর্ঘদিন যাবত দাবি জানিয়ে আসছেন। বিভিন্ন সময় তিনি তাঁর দাবির স্বপক্ষে বিভিন্ন যুক্তিও উপস্থাপন করেছেন। অনলাইনে প্রকাশিত একটি লেখায় তিনি ভর্তিপরীক্ষা গ্রহণের কারণ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অর্থালোভকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন। অর্থ উপার্জনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের স্বনামধন্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক মহোদয়গণ ভর্তিপরীক্ষা চালু রেখেছেন- এমন বক্তব্য অধ্যাপক জাফর ইকবাল সুচিন্তিতভাবে প্রদান করেছেন এমনটি বিশ্বাস করা কষ্টকর। তিনি যদি একান্তই ভেবেচিন্তে এ বক্তব্য প্রদান করে থাকেন তো সেটি জাতির জন্য নিতান্ত দুর্ভাগ্যজনক।

 

ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করার ব্যাপারে প্রথম যুক্তিটি হচ্ছে- "বোর্ড পরীক্ষায় ভাল ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত পরীক্ষায় কোন কারণে ব্যর্থ হলে কাঙ্খিত প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে ব্যর্থ হয়।" সেক্ষেত্রে, যারা বোর্ড পরীক্ষায়ই কোন কারণে ব্যর্থ হয়েছে তাদের ব্যাপারে সমাধান কি? কোন কারণে খারাপ তো যেকোন পরীক্ষাই হতে পারে! সেটা বোর্ড পরীক্ষাও হতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপরীক্ষাও হতে পারে! তাহলে অন্যান্য পরীক্ষায় "কোন কারণে" যারা ব্যর্থ হয়েছে তাদের ব্যাপারে দয়াপরবশ না হয়ে কেবলমাত্র ভর্তিপরীক্ষায় যারা ব্যর্থ হয়েছে তাদের জন্য সমব্যথী হবার পেছনে কি যুক্তি থাকতে পারে? নিঃসন্দেহে, এ ধরণের বক্তব্য অসংলগ্ন ও পরষ্পরবিরোধী। আবার, ভর্তিপরীক্ষার ১-২ ঘন্টা সময়ে একজন পরীক্ষার্থীর মেধা সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব নয় বলে যে যুক্তি দেখানো হয়/হয়েছে সেটিও অসংলগ্ন। কারণ শুধু ভর্তিপরীক্ষাই নয়, পৃথিবীর সব পরীক্ষায়ই ১-২ ঘন্টা সময়ের মধ্যেই একজন পরিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়। ১-২ ঘন্টার পরীক্ষায় একজন পরীক্ষার্থীর মেধা সঠিকভাবে যাচাই করা সম্ভব কিনা সে বিষয়ে পৃথিবীতে বিতর্ক রয়েছে, তবে এর চেয়ে কার্যকর সমাধান এখনো বের করা সম্ভব হয় নি।

 

ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের ব্যাপারে দ্বিতীয় যে যুক্তিটি দেখানো হয় সেটি হচ্ছে, "ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করা হলে কোচিং সেন্টারগুলোর দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।" অদ্ভূত যুক্তি! কোচিং সেন্টার ব্যক্তি মালিকানাধীন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় সায়ত্ত্বশাসিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ দু'য়ের মাঝে কোন সম্পর্ক নেই। কোচিং সেন্টার ও বিশ্ববিদ্যালয় স্বাধীনভাবে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে। সেখানে, কোচিং সেন্টারের মত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভর্তিনীতি বদলে ফেলার দাবি শুধু হাস্যকরই নয়, আতংকজনকও বটে!

 

ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি বাতিলের দাবির পাশাপাশি সাম্প্রতিককালে সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা নামীয় একটি পদ্ধতি প্রস্তাব করা হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যা ভর্তিপরীক্ষা বাতিলের দাবির মতই অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য। এ দাবির স্বপক্ষে সর্বপ্রথম যে যুক্তিটি দেখানো হয় সেটি হচ্ছে, "বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য যুদ্ধ করতে হয়। অনেকে কাঙ্খিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেয়। তাতেও চান্স না পেলে দু’বছর পিছিয়ে যেতে হয়" (অবশ্য এখন অনেক বিশ্ববিদ্যালয় একাধিকবার পরীক্ষা দেয়ার সুযোগ রহিত করেছে)। অথচ এ ব্যাপারটি একান্তই একজন পরীক্ষার্থীর ব্যাক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ-সিদ্ধান্তের সাথে সম্পর্কিত। একজন পরীক্ষার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেবেন নাকি দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেবেন নাকি দেশের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেবেন, একবার ভর্তিপরীক্ষা দেবেন নাকি একাধিকবার ভর্তিপরীক্ষা দেবেন- সেসব তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত। কারো ব্যক্তিগত ও নিজস্ব সিদ্ধান্তকে বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তিপ্রক্রিয়া নির্ধারণ করার দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতির পক্ষে দ্বিতীয় যুক্তিটি হচ্ছে, "বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেয়ার জন্য পরীক্ষার্থীদের বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। এক্ষেত্রে অর্থ ও শ্রম দু’টোই ব্যয় হয়।" এ যুক্তির ব্যাপারেও একই বক্তব্য প্রযোজ্য - একজন পরীক্ষার্থী একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেবেন নাকি একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেবেন সেটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কারো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় তার পলিসি পরিবর্তন করতে না চাওয়ায় অত্যাশ্চর্য্যের কিছু নেই। এর বাইরে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে “বড় বিশ্ববিদ্যালয়”গুলোর আপত্তি জানানোর পেছনে যৌক্তিক কারণ রয়েছে (অধ্যাপক জাফর ইকবালের লেখায় বিভিন্ন সময় "বড় বিশ্ববিদ্যালয়"গুলো বাধাপ্রদান করে- এমন দাবি এসেছে)। সমন্বিত পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেয়া হলে একটিমাত্র পরীক্ষার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সকল ছাত্রছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্টন করা হবে। সেক্ষেত্রে সুবিধা হচ্ছে, একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিপরীক্ষা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া পরীক্ষার্থীদের সারা দেশে দৌড়োতে হবে না। অর্থাৎ, যে যার এলাকায় বা কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে পারবে। সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, পরীক্ষার মাননিয়ন্ত্রণ বড় ধরণের ঝুঁকির সম্মুখীন হবার সম্ভাবনা রয়েছে। এ মূহুর্তে যে পদ্ধতিতে ভর্তিপরীক্ষা গৃহীত হয় তাতে করে, উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) তাদের নিজস্ব মান বজায় রেখে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ও আস্থার সাথে যোগ্যতর আবেদনকারীদের নির্বাচন করতে পারে। এটি সম্ভব হয় ভর্তিপরীক্ষার উপর তাদের নিজস্ব ও পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকায়। কিন্তু সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ভর্তিপরীক্ষার উপর কোন নির্দিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একক নিয়ন্ত্রণ থাকার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে ভর্তিপরীক্ষার মানের প্রশ্নে ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিন্ন ধরনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না। বরং সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য কোন পদ্ধতিকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। অথচ একটি মাত্র আবেদনের ভিত্তিতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য বিবেচিত হবার এমন নজির উন্নত দেশগুলোর কোথাও নেই। তাছাড়া এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মত দেশসেরা প্রতিষ্ঠানগুলো যুগ যুগ ধরে গড়ে তোলা নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ন্ড রক্ষার প্রশ্নে কোন ধরণের ছাড় দিতে চাইবে না। সেটি পৃথিবীর কোন শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানই চাইবে না।

 

সবচেয়ে বড় আতংকের বিষয় হচ্ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার সম্ভাবনা। সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরীক্ষা শুরুর নির্ধারিত সময়ের বেশ আগে এবং বহু হাত ঘুরে দেশের সকল কেন্দ্রে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করতে হবে, যেক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে বেড়ে যাবে, যা মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে আমরা প্রতিবছর দেখে থাকি। এর বাইরে, পরীক্ষাকেন্দ্রের মান নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নেও দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় রকমের ঝুঁকি নিতে হবে। দেশের ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পরীক্ষাকেন্দ্রের মান কতটা ওঠানামা করে সে বাস্তবতার ব্যাপারে দেশের নাগরিক ভালোভাবে অবগত। এককালে যখন দেশে নকলের মহোৎসব ছিলো তখন শুধুমাত্র নকল করার সুবিধা পাবার জন্য অনেক শিক্ষার্থী গ্রামের কলেজে বোর্ড পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেইশান করতো। এখনো দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে যারা থাকেন তাদের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্ব করার নজির বিরল নয়। এ বাস্তবতা প্রান্তীয় অঞ্চল বা দূরের শহরগুলোর ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য। অন্যদিকে, যদি এমন হয়ে থাকে যে দেশের সকল ভর্তি পরীক্ষার্থীকে ঢাকায় এসে পরীক্ষা দিতে হবে, সেক্ষেত্রেও পরীক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের ব্যাপার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থেকে যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৬ সালের এইচএসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬২৮ শিক্ষার্থী। সাম্প্রতিক ফলাফলের ভিত্তিতে, এদের মধ্যে শতকরা ৯৩-৯৪ ভাগ পাশ করবে। অর্থাৎ, ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিপরীক্ষায় অংশ নেবে প্রায় ১১ লাখ শিক্ষার্থী। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্রগুলো পুরো ঢাকা শহরজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকবে। এদের সবার জন্য সম বা কাছাকাছি মানের ও মানসম্মত পরীক্ষাকেন্দ্র নিশ্চিত করা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একটি দূরূহ ও অবাস্তব ব্যাপার। সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশের বাস্তবতাকে সামনে রেখে “বড় বিশ্ববিদ্যালয়”গুলো সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা গ্রহণের ঝুঁকি নেবে না- এটি স্বাভাবিক। মানের প্রশ্নে “বড় বিশ্ববিদ্যালয়”দের আপোষ না করা বা ছাড় না দেয়ার এ বাস্তবতা দুর্বোধ্য নয়। নিঃসন্দেহে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় নিচের র‍্যাংকের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একই আবেদনপত্রে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সম্মত হবে না। বাস্তবিকভাবে, তারা সেটা করেও না।

 

প্রচলিত ভর্তিপরীক্ষার বদলে সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা গ্রহণের দাবির পাশাপাশি, এমনকি প্রচলিত ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি তুলে দেবার ব্যাপারেও, বিভিন্ন সময় দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। ভর্তিপরীক্ষাবিরোধীদের দাবিমতে, "ভর্তিপরীক্ষাসমূহ কেবলমাত্র বোর্ড পরীক্ষার অতি সংক্ষিপ্ত রূপ এবং এ পরীক্ষার গুণগতমান প্রশ্নবিদ্ধ। একাধিক ক্ষেত্রে ভর্তিপরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল ধরা পড়েছে। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।" অথচ এসব দাবির সিংহভাগই অসত্য কিংবা অবিসংবাদিত নয়। যারা ভর্তিপরীক্ষার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তারা সবাই জানেন, বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীদেরকে সত্যিকারের পড়াশোনা করতে হয় এই ভর্তিপরীক্ষার সময়ই। বোর্ড পরীক্ষার যারা এ+ পেয়ে থাকেন তাদের অনেকেই সেটি পান নির্বাচিত বা বাছাই করা প্রশ্ন পড়ে, সদ্যবিগত পরীক্ষায় যেসব প্রশ্ন এসেছে সেগুলো বাদ দিয়ে, জোড় সালের পরীক্ষায় যেসব প্রশ্ন এসেছে সেগুলোর ওপর এক ধরণের জোর দিয়ে, বেজোড় সালের পরীক্ষায় যেসব প্রশ্ন এসেছে সেগুলোর ওপর আরেক ধরণের জোর দিয়ে। অথচ ভর্তিপরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য একজন পরীক্ষার্থীকে আক্ষরিক অর্থেই পুরো বইয়ের কাভার টু কাভার পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে পড়তে হয়। কোন ধরণের সাজেচশান অনুসরণ করার তো প্রশ্নই ওঠে না, বরং উচ্চ মাধ্যমিক বইয়ের খুঁটিনাটি বিষয়ও প্রবলভাবে আত্মস্থ করতে হয়। যেখানে বোর্ড পরীক্ষার মাধ্যমে একজন পরীক্ষার্থীর জ্ঞানের পরিধি যাচাই করা হয়, সেখানে ভর্তিপরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার হয় পরীক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞানের ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রিটিক্যাল রিজনিংয়ের ক্ষমতা। এককথায়, ভর্তিপরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণকালীন একজন শিক্ষার্থীকে, ইচ্ছাসত্ত্বে বা অনিচ্ছাসত্ত্বে, উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেকে তুখোড়ভাবে ঝালাই করে নিতে হয়। আর এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই অসংখ্য মেধাবী ও যোগ্য আবেদনকারীর মধ্যে থেকে অধিকতর যোগ্য ও মেধাবীদের বাছাই করে নেয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যে কারণে, সঙ্গতভাবেই, বলা হয়- ভর্তিপরীক্ষায় বেস্ট বিটস দ্য বেস্ট। সেখানে ভর্তিপরীক্ষা কেবলমাত্র বোর্ড পরীক্ষার অতি সংক্ষিপ্ত রূপ এবং এ পরীক্ষার গুণগতমান প্রশ্নবিদ্ধ ধরণের বাস্তবতাবিবর্জিত ঢালাও মন্তব্য হতাশাব্যঞ্জক।

 

ভর্তিপরীক্ষা তুলে দেবার প্রশ্নে পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ভুল পাওয়ার ও প্রশ্নপত্র ফাঁস হবার যে অভিযোগ ভর্তিপরীক্ষাবিরোধীরা করেন সে বিষয় বিশদ আলোচনার দাবি রাখে না। কারণ, তাঁদের দাবি সত্য হলে তা সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষার ব্যাপারে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সম্মত না হওয়াকেই সমর্থন করে কেবল।

 

সর্বশেষ, সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষার পক্ষে আরেকটি যে যুক্তি দেখানো হয়ে থাকে সেটি হচ্ছে, "বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি চালু রয়েছে।" যদিও বিশ্বের কোন দেশে সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি চালু রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে এমনও দাবি করা হয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বদ্যিালয়গুলোতে এ ধরনের পদ্ধতি চালু রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোন শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট রেকর্ড এক্সামিনেশনে (জিআরই) অংশ নিয়ে যে নম্বর পায় তা দিয়ে যেকোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারে। অথচ এ দাবি বিভ্রান্তিকর। প্রথমত, যুক্তরাষ্ট্রের কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি বা সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব রেকয়ারমেন্ট রয়েছে। ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথকভাবে আবেদন করতে হয়। দ্বিতীয়ত, জিআরই স্কোর গ্র্যাজুয়েট লেভেলে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রদান করতে হয়, আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা অনার্স লেভেলে ভর্তির ক্ষেত্রে নয়। তৃতীয়ত, জিআরই পরীক্ষার স্কোর রিপোর্ট আর দশটি মার্কশিটের মতই একটি মার্কশিট, যার ব্যবহারে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পৃথকভাবে আবেদন করতে হয়। একে "সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষার" সাথে তুলনা করা শুধুমাত্র অপ্রাসঙ্গিক ও অগভীরই নয়, হাস্যকরও বটে। চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে স্যাট-জিআরই ইত্যাদি স্ট্যান্ডার্ডাইজড টেস্টের স্কোরই একমাত্র রেকয়ারমেন্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে এসব স্কোরের পাশাপাশি চার বছরের বিএস সার্টিফিকেট, একটি পার্সোনাল স্টেটমেন্ট, কমবেশি তিনটি রেকমেন্ডেশান লেটার, ও আন্তর্জাতিক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে টোফেল বা আইইএলটিস স্কোর জমা দিতে হয়। আবেদনকারীর এতসব ম্যাটেরিয়ালের ওপর নির্ভর করতে পারার কারণে অ্যাডমিশান্স কমিটির পক্ষে বাছাই প্রক্রিয়া এমনিতেই সহজ হয়ে যায়। তাছাড়া সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনকারীর সংখ্যা বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আবেদনকারীর সংখ্যার তুলনায় এত কম হয়ে থাকে যে সেসব দেশের ভর্তি প্রক্রিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি প্রক্রিয়ার তুলনা করা নেহায়েত আপেলের সাথে কমলা তুলনা করার মত।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সিংহভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্রেজুয়েট লেভেলে শিক্ষার্থী গ্রহণের হার বা অ্যাকসেপ্টেন্স রেট ৬০-৮০%, এমনকি অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯০+%, পর্যন্ত (আগ্রহীরা US News and World Report এর ওয়েবসাইটে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে আলাদাভাবে তথ্য পাবেন)। অর্থাৎ, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি ১০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেন তো তাদের মধ্যে ৬০ থেকে ৮০ জন, কিংবা ৯০ জনই, অ্যাকসেপ্টেড হন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসেপ্টেন্স রেট অবিশ্বাস্যরকম কম! মাত্র ~২.৫% (গত বছর ৬৬৮৫ টি আসনের জন্য আবেদন করেছেন ২,৫৪,৪০৪ জন। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিলো ২,৬২,৯০৩।)! এমনকি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো- যেমন হার্ভার্ড, এমআইটিতেও- অ্যাকসেপ্টেন্স রেট এর চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। তারপরও অনেকে হুটহাট করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অবিশ্বাস্য তুলনাটি করে বসেন। পৃথিবীর সেরা ইউনিভার্সিটিগুলোর ৬০-৭০% ই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রে টাইটেল-V এলিজিবল, ডিগ্রী-গ্রেন্টিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা প্রায় ৫০০০। তবু উচ্চ টুইশান ফি, সামাজিক কাঠামোসহ নানামুখী প্রতিবন্ধকতার কারণে আমেরিকানদের অধিকাংশই (শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ) বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা করতে পারেন না। সেখানে, বাংলাদেশে লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর বিপরীতে সরকারী-বেসরকারী মিলিয়ে ৫০ টিও মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয় নেই। আবার, সরকারী যেসব বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, স্বল্প টুইশান ফির কারণে হোক বা তুলনামূলক ভালো শিক্ষার পরিবেশের কারণে হোক, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অসংখ্য আবেদনপত্র জমা পড়ে। সেক্ষেত্রে, আমাদের স্বল্পসংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে অসংখ্য ছাত্রছাত্রী ভর্তি হবার ক্ষেত্রে উচ্চমানের একটি প্রতিযোগীতা হবে- এটি প্রত্যাশিতই। এর সাথে আমেরিকান বা বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কোন তুলনা চলে না। তাছাড়া, ওসব বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে অ্যাকাডেমিক সার্টিফিকেটের বাইরেও বিবিধ রেকয়ারমেন্ট নির্ধারণ করে রেখেছে। আমাদের শিক্ষাকাঠামো সে পর্যায়ের নয় বিধায় আমাদের পক্ষে তাদের মত করে চার-পাঁচটি রেকয়ারমেন্ট নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না। যে কারণে, বাধ্য হয়েই, অসংখ্য যোগ্য আবেদনকারীর মধ্যে থেকে অধিকতর যোগ্য আবেদনকারীদের বাছাই করার নিমিত্তে আমাদের ভর্তিপরীক্ষার শরণাপন্ন হতে হয়। এর বাইরে, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে, গুচ্ছ বা সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি করা হয় বলে যে দাবি করা হয় তা সর্বৈব অসঠিক।

 

পৃথিবীর অনুসরণীয় সকল বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ভর্তি পদ্ধতি রয়েছে এবং পৃথিবীর অনুসরণীয় কোন বিশ্ববিদ্যালয়েই গুচ্ছ বা সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতি নামক অদ্ভুত পদ্ধতির অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও এমন বিচিত্র পদ্ধতি নিয়ে ভাবার সুযোগ নেই। বর্তমান সময়ে, লক্ষ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্য থেকে, যোগ্যতম আবেদনকারীদের বাছাই করার যে পদ্ধতি আমাদের দেশে চালু রয়েছে সেটি এককথায় অতুলনীয়। শুধুমাত্র এই বাছাই প্রক্রিয়ার কল্যাণেই দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যুগের পর যুগ ধরে জাতিকে সেরা সন্তান উপহার দিয়ে চলেছে। দেশে, দেশের বাইরে সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে, চাকুরীক্ষেত্রে, উচ্চশিক্ষায় সবখানে একচ্ছত্র আধিপত্য এই “বড় বিশ্ববিদ্যালয়”গুলোর। প্রতি বছর বিসিএস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষায় যতসংখ্যক আবেদনকারী কৃতকার্য হন তার সিংহভাগ শুধুমাত্র ঢাবির শিক্ষার্থী। বিগত বছরগুলোর বিসিএস পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মেধাতালিকায় স্থান করে নেয়া প্রথম ১০ জনের মধ্যে ৬-৮ জনই ঢাবির শিক্ষার্থী। এগুলো কাকতাল নয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে যতজন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী-শিক্ষক উচ্চশিক্ষা, শিক্ষকতা ও গবেষণাকর্মে নিয়োজিত রয়েছেন তাঁদের শতকরা প্রায় ৭০-৮০ ভাগ শুধুমাত্র বুয়েট ও ঢাবির অ্যালামনাই। এটিও কোন কাকতাল নয়। এ সবই ফলাফল। আমাদের শত সমস্যা-প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সত্যি, কিন্তু এতসব প্রতিবন্ধকতার ভেতরেও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থেমে থাকে নি। এই নিয়ত অগ্রযাত্রার পথে যাদের নিকট বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ঋণী তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দেশের “বড় বিশ্ববিদ্যালয়”গুলো। দেশে, দেশের বাইরে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সাফল্যের পেছনে এদের ভূমিকা অসীম। পৃথিবীর সকল দেশেই হাতেগোণা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থাকে যারা যুগের পর যুগ ধরে দেশকে সোনার সন্তান উপহার দেয়। আমাদের দেশে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঢাবি ও বুয়েট। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা নামক অ-সাধারণ পদ্ধতির মাধ্যমে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণের কাতারে নামিয়ে আনার এই বিপজ্জনক ও দেশঘাতী প্রস্তাবকে সংশ্লিষ্টগণ বিচক্ষণতা ও প্রজ্ঞার সাথে নিরীক্ষা করবেন।

আবু সালেহ্ মুহাম্মাদ ফখরুল ইসলাম