লেখা

মুসলমানেরা কি অন্যদের চাইতে বেশি নারীবিদ্বেষী?
মুসলমানেরা কি অন্যদের চাইতে বেশি নারীবিদ্বেষী?
১০ অক্টোবর ২০১৫

 

বাংলাদেশী লেখক মাহমুদুল হাসান তার ‘ Feminism as Islamophobia: A review of misogyny charges against Islam’ লেখায় নারীবাদ ও ইসলামের মধ্যবর্তী দ্বান্দ্বিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ‘নারীবিদ্বেষী ধর্ম’ হিসেবে প্রচলিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে গবেষনামূলক আলোচনা করেছেন। গবেষনামূলক আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ধর্মকে নারীবিদ্বেষী অনুষঙ্গ হিসেবে দেখা এবং ধর্মীয় রীতিনীতিগুলোকে নারীর প্রতি বৈষম্যের বাহক হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি দীর্ঘ সময় ধরেই প্রচলিত একটি বিষয়। সামগ্রিকভাবে সকল ধর্মকেই নারীর প্রতি অসম ব্যবহারের প্রতীক হিসেবে মনে করা হলেও ইসলাম ধর্মকে এ দিক থেকে বিশেষভাবে দায়ী করা হয়।

বিশেষতঃ মুসলিম নারীকে উপস্থাপনার ভঙ্গী আর নারী অধিকার সংক্রান্ত যুক্তিতর্ক ও আলোচনা পশ্চিমা বিশ্ব ও ইসলামের মধ্যে অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক লড়াইয়ের বিষয়বস্তু হয়ে দাড়িয়েছে। এ লড়াইয়ের ব্যাপ্তিকাল বহুদিনের। ইসলাম ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের শুরুর দিকটা বেশ তিক্ত। লেখক এখানে তিক্ততার কথা বলতে গিয়ে ক্রুসেড (সামরিক), উপনিবেশবাদ (রাজনৈতিক) আর আদর্শিক তর্কের দিকটা তুলে ধরেছেন। মূলতঃ ক্রুসেডের সেই সময় থেকেই পশ্চিমা সমাজ ইসলামকে নানা অভিযোগের তীরে বিদ্ধ করে। যার মধ্যে অন্যতম প্রধান একটি আলোচিত বিষয় হচ্ছে নারী স্বাধীনতা ও নারী অধিকারের ক্ষেত্রে ইসলামের অবস্থান পর্যালোচনা। কিন্তু পর্যালোচনা করতে গিয়ে পশ্চিমা সমাজ জন্ম দেয় ‘ইসলামভীতি’ (Islamophobia) নামক নতুন ধারনার। বর্তমান একাডেমিক আলোচনায়ও ইসলামভীতি একটি বিশাল অংশ জুড়ে আছে। ইসলামভীতি মূলত কাজ করে  ইসলামকে সার্বিকভাবে নেতিবাচক একটি ধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার একটি প্রচেষ্টারূপে।

এই ব্যাপারটি যে চিন্তার উদ্রেক করে তার একটি প্রমান পাওয়া যায় ও আই সি’র কাজ থেকে।   ও আই সি ২০০৮ সাল থেকে ‘ OIC Observatory on Islamophobia’ নামে তাদের একটি মাসিক সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করে। এছাড়াও, ২০০৪ সালের সাত ডিসেম্বর ইসলাম ভীতি নিয়ে জাতিসংঘ আয়োজিত একটি সেমিনারে জাতিসঙ্ঘের তৎকালীন মহাসচিব কফি আনান তার প্রতিক্রিয়ায় জানান , “ইসলাম ভীতি শব্দের উৎপত্তি ১৯৮০ কিংবা ১৯৯০ এর দিকে মনে করা হলেও আসলে এর শিকড় বহু শতাব্দীকালের।”

ইসলাম ভীতির সংজ্ঞায়নের পরিসীমার মধ্যে নারীর প্রতি ইসলামের বৈষম্যমূলক আচরন একটি বড় অংশ জুড়ে আছে। লেখক এখানে ইসলামভীতির সার্বিক আলোচনায় না গিয়ে ‘লৈঙ্গিক ইসলামভীতি’ (Gendered Islamophobia) বিষয়ে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। লেখক লৈঙ্গিক ইসলামভীতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে মুসলিম নারীকে কীভাবে সমাজে চিত্রিত করা হয় তার কিছু সংক্ষিপ্ত উদাহরন দিয়েছেন। একটি উদাহরন হিসেবে লেখক ৯/১১ পরবর্তী ঘটনা বিশ্লেষন করেছেন। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে ইউএসএ হামলার সময় আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্বকারী চিত্র হিসেবে নারীর অধঃপতিত অবস্থাকে তুলে ধরা হয়। এটিকে যুদ্ধবৈধতার অন্যতম লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তৎকালীন ফার্স্ট লেডী উল্লাসের সাথে বলেন যে, আফগানিস্তানে তাদের সামরিক বিজয় অর্জনের কারনে আজকে নারীরা আর বন্দী নেই এবং তিনি আরও বলেন যে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ নারীর অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষার লড়াইও বটে। এভাবে সকল ক্ষেত্রে মুসলিম নারীকে চিত্রায়ন করা হয়েছে শিকলে বন্দী, নিঃসঙ্গ, পরাধীন সত্ত্বা হিসেবে। অন্যদিকে মুসলিম পুরুষকে চিত্রিত করা হয়েছে যৌনকামী পুরুষ হিসেবে। এই প্রচারনার ধারাবাহিক ধারায় পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুসরনকে মুসলিম নারীদের চিত্রিত বদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তির পথ হিসেবে নারীবাদীরা দাবী করতে শুরু করেন।

লেখক বলেন যে, ইসলামভীতিকে চিত্রায়নের আর একটি প্রবনতা হচ্ছে ইসলামকে এবং মুসলিম নারীদের সমস্যাবলীকে সরলরৈখিক এবং একক মাত্রায় সংজ্ঞায়নের বিবেচনা। কিন্তু প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্যের স্কলাররা স্বীকার করে নিয়েছেন যে, উপনিবেশবাদী এবং পাশ্চাত্য নারীবাদী উভয়ই নারীবাদী কল্পকে ব্যবহার করে ঔপনিবেশিক স্বার্থ ও সাম্রাজ্যবাদী চেতনার সম্প্রসারন ঘটাতে চান। মুসলিম নারীকে উপস্থাপনার ভঙ্গীতে মনে হয় যেন মুসলিম নারীরা পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অসহায় হয়ে পাশ্চাত্যের কাছে ধর্না দিচ্ছে।

সত্য হচ্ছে যে, আমেরিকার আলাবামা, জর্জিয়া, মিসিসিপিতে নারীর সম্পত্তির অধিকার সংরক্ষিত হয় এইতো ১৯৬০-৭০ এর দশকে। এবং আরো মজার বিষয় হচ্ছে, নারীদের অধিকার সংরক্ষণে প্রথম পদক্ষেপ আমেরিকার যে স্টেটগুলো নেয় সেগুলো ছিলো স্পেন সাম্রাজ্যের অধীনে। উদাহরনস্বরূপ টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, নিউমেক্সিকোর কথা লেখক উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকদের ভাষ্যমতে, এটি মূলত ইসলামী অনুশাসনের প্রভাব স্পেন এ থাকার কারনে সম্ভব হয়েছে। ব্রিটেনে সমান মজুরির অধিকার দেওয়া হয় ১৯৭০ সালে। বিটেনের রক্ষনশীল পার্টির পূর্ন সদস্য হিসেবে দলীয় প্রোগ্রামে অংশগ্রহনের অধিকার নারীদের দেওয়া হয় মে, ২০০৮ সালে। অথচ মজার ব্যাপার হচ্ছে, পশ্চিমা বিশ্বে নারীরা যে অধিকার আজকে ভোগ করছে, মুসলিম বিশ্বের নারীরা শিক্ষা, সম্পত্তির উত্তরাধিকার, সম্পত্তির মালিকানা, বিবাহের অধিকার, ডিভোর্সের অধিকার, কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহনের অধিকার, সমমজুরির অধিকার এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকরন অনেক আগে থেকেই ভোগ করে আছে।

অন্যান্য ধর্মগুলোর সাথে তুলনামূলক পর্যালোচনায় ইসলামের নারী অধিকার সংক্রান্ত রীতিনীতি  উন্নত প্রমানিত হলেও একাডেমিক আলোচনা এবং গনমাধ্যমে প্রচারনায় ইসলামকে প্রান্তিকভাবে উপস্থাপনা করে ইসলামকে আধুনিক সভ্যতার বিপরীত আদর্শ এবং ইউরোপীয় মূল্যবোধের শ্রেষ্ঠত্য ঘোষনা করা হয়। কিন্তু ইসলামে নারীরা প্রথম থেকে ব্যাপক সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছে। লেখক এখানে ইসলাম এবং অন্যান্য ধর্মের তূলনামূলক চিত্র থেকে বিষয়টি তুলে ধরেন। হিন্দু ধর্মমতে, একটি কন্যাশিশু তার জন্মের পরে তার বাবার কাছে, যৌবনে তার স্বামীর কাছে আর বার্ধক্যে স্বামীর মৃত্যুর পরে সন্তানের কাছে আবদ্ধ। সে কখনোই স্বাধীন নয়। সুইডলার বলেন, ইহুদী ধর্মমতে নারীর অবস্থান পুরুষের সমান তো নয়ই বরং প্রচণ্ড আকারে অধঃপতিত। খ্রিস্টান ধর্মমতে নারীর সৃষ্টি পুরুষের পরে এবং আদি পাপের সংঘটনে নারীকে দায়ী করা থেকে শুরু হয় বৈষম্য মূলক আলোচনা। শতাব্দীকাল ধরে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন লেখালেখিতে এগুলো চলে আসছে।

লেখক তুলে ধরেন যে, মধ্যযুগে ইসলাম বরং সমালোচিত হয়েছে নারীহিতৈষী হিসেবে। তখন বরং প্রশ্ন এসেছে যে, এটি কোন ধর্ম যা নারীকে উত্তরাধিকার দেয় এবং সম্পত্তির মালিকানা দেয়। বীরামন্ত্রী’র (Weeramantry) উদ্ধৃতি দিয়ে লেখক বলেন যে, ইউরোপিয়ান আইন ব্যবস্থায় ইসলামী প্রভাবের কারনে এটি মধ্যযুগের আরো প্রসারন থেকে বেচেছে। ইসলামের মৌলিক আইন ব্যবস্থাই বরং মানবাধিকার আলোচনায় সার্বজনীন চিন্তার উদ্ভব ঘটায়।

অয়ের্বনার তর্ক করেছেন যে, ইসলামভীতি এমন অক্ষমতাকে নির্দেশ করে যা ভিন্ন মত এমনকি সদৃশ মতের সাথেও সামঞ্জস্যসাধন করতে পারে না। লেখক বলেন, মুসলিম নারীদেরকে অত্যাচারিত, অধীন হিসেবে সার্বজনীন মনে করা এবং আরবদেরকে পশ্চাদপদ জাতি হিসেবে মনে করা মূলত অজ্ঞ ধারনা আর কুসংস্কারের বহিঃপ্রকাশ ব্যতীত আর কিছুই নয়। এই ধারনাটির উৎপত্তি প্রধানতঃ এই বিশ্বাস থেকে যে, মানবাধিকারের ধারনা ধর্মের আওতাভুক্ত নয় বরং এটি শুধুমাত্র সেক্যুলার প্রেক্ষিত থেকেই আলোচিত হতে পারে। অজ্ঞতার উদাহরন হিসেবে মাহমুদুল হাসান বাটলারের (Butler) দুইটি প্রশ্নের জবাবে আমেরিকার শিক্ষিত মানুষের উত্তর তুলে ধরেন। প্রশ্ন দুইটি ছিলো, ইসলাম কী? এবং নবী মুহাম্মদ কে? একটি উত্তর আসে যে,  ইসলাম ক্লু ক্লাক্স ক্লান এর ন্যায় একটি গোত্রীয় বিশ্বাসকে বোঝায় এবং মুহাম্মদ হচ্ছেন  অ্যারাবিয়ান নাইটের এর লেখক। এটি ছিল ১৯৬০ এর দিকের কথা। প্রায় ৫০ বছর পরে ২০০৮ সালে পিটার গটসচক এবং গ্যাব্রিয়েল গ্রীনবার্গ একই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে গেলে উত্তরে তারা ইসলামকে একটি সহিংস ধর্ম হিসেবে অভিহিত করেন। উত্তরদাতাদের মতামত ছিলো যে,  ইসলাম ধর্মেই এমন কিছু আছে যে কারনে এর অনুসারীরা সহিংস কর্মকান্ডে জড়িত। প্রশ্নের উত্তরগুলো থেকেই ১ম ক্ষেত্রে অজ্ঞতা এবং ২য় ক্ষেত্রে বৈরীতা এবং নেতিবাচক ধারনার স্পষ্ট প্রমান পাওয়া যায়।

মাহমুদুল হাসান ব্যাখ্যা করেন যে, শিল্প বিপ্লবের সময় পশ্চিমা নারীরা মাঠে ময়দানে আন্দোলনে এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন অধিকার আদায় করে। অন্যান্য প্রান্তের নারীরা তাদের এই সাফল্যের কারনে পশ্চিমা নারীদেরকে রোল মডেল হিসেবে গ্রহণ করা শুরু করে। মুসলিম বিশ্বের মধ্যেও এই ধারনায় প্রভাবিত হয়ে পাশ্চাত্যের অনুকরন এবং ইসলামী আইনের অবমূল্যায়নের মাধ্যমে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। এক্ষেত্রে মিশরীয় নারীয়াদী কাশিম আমিন, হুদা শারাবী, এবং সাম্প্রতিককালের নারীবাদী নাদাল বাদাবী, ইরশাদ মঞ্জি, আয়ান হিরশি আলী এবং তসলিমা নাসরীনের উদাহরন টানা হয়েছে। হুদা শারাবী ১৯২৩ সালে বিশ্ব নারী কনফারেন্সে বলেন যে, নারী জাগরনে মুসলিম নারীদেরকে ইউরোপীয় নারীদের পদচিহ্ন অনুসরন করতে হবে। কাশীম আমিন, যাকে আরব নারীবাদের প্রবক্তা বলা হয়ে থাকে, তিনি তার বই, তাহরীর আল মারা’হ তে পশ্চিমা দর্শনের মাধ্যমে আরব সংস্কৃতিকে ব্যাখ্যা করেছেন এবং মৌলিক পরিবর্তনের জন্য আরব সংস্কৃতির ইউরোপীয়করন চেয়েছেম। সাম্প্রতিকালের নারীবাদীদের মধ্যেও এই প্রবনতা বেশ ভালোভাবেই পরিলক্ষিত হয়। আয়ান হিরশী আলী এবং এরশাদ মঞ্জি উভয়ই ইসলামের সমালোচনা করে বলেছেন, মুসলিম সমাজে মেয়েদেরকে কোরান এবং নবী মুহাম্মদের জীবনদর্শন অনুযায়ী প্রতিপালিত করা হয় যা তাদেরকে মূলতঃ খাচায় বন্দী করে দেয়। একইরকমভাবে তসলিমা নাসরীন তার লেখায় ধর্মকে নারীর প্রতি অসম আচরণের জন্য দায়ী করেছেন। তিনি তার লেখায় বোরখা পরিহিত নারীকে কালো গোখরা সাপের সাথে তুলনা করেছেন। ১৯৯৩ সালে বিবিসি তে একটি সাক্ষাৎকারে একহাতে কোরআন এবং অন্য হাতে সিগারেট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।

অথচ তাদের এই সকল লেখনীতে তারা কোন কোরআন হাদীসের রেফারেন্স দেখাতে পারেননি। কিংবা নবী মুহাম্মদের জীবনের এমন একটি ঘটনা উদাহরন দেখাতে পারেননি। লেখক এই প্রসঙ্গে বাদরানের (Badran) সমালোচনাকে উল্লেখ করেন যেখানে উল্লেখিত নারীবাদীদের উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেন। বাদরান বলেন যে, কাশিম আমিন লর্ড ক্রোমার দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন । লর্ড ক্রোমার মিশরীয় স্থানীয় রীতিনীতির সমালোচনা করে বলেছেন যে, মিশরের নারীরা বৈষম্যের শিকার এবং নিংসঙ্গতায় ভুগছে। কিন্তু এই ক্রোমার আবার ব্রিটেনে নারীদের ভোটাধিকার বিরোধী কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই পশ্ন উঠে,  তারা কী প্রকৃতপক্ষেই নারী অধিকারে ব্যাপারে চিন্তিত কিনা । এই নারীবাদীদেরকে লেখক প্রশ্ন করেন যে, মুসলিম নারীরা কী ইসলামকে মানেন না কিংবা তারা কী মুসলিম সমাজের অংশ নন। এর মাধ্যমে লেখক শক্তিশালী মত দেন যে, তারা আসলে মুসলিম নারীর মুক্তি চায় না বরং তারা ইসলামী সংস্কৃতির পাশ্চাত্যকরন করতে চায়। নারী মুক্তির নামে পাশ্চাত্যকরন ও আধুনিকীকরন এর জোয়ার আসলে প্রকৃত সমাধান কিংবা গবেষনাকৃত ফল নয় , বরং এটি ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব এবং পাচাত্যের অন্ধ অনুকরন কে চিহ্নিত করে। তারা সেক্সুয়াল বিপ্লবের নামে আসলে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

এহেন পরিস্থিতে লেখক কয়েকটি সমাধান দিয়েছেন। নারীবাদীদেরকে ইসলামের রীতিনীতিগুলোকে শ্রদ্ধা করতে হবে। ইসলাম অনুসারীদেরকেও স্বীকার করতে হবে যে, নারীবাদীরা নারীদের প্রতি বৈষম্যের দিকটি দৃশ্যমান করতে সক্ষম হয়েছেন। ওহীর ধর্ম ইসলাম এবং বিভিন্ন সংস্কৃতিতে ইসলামের অনুশীলনের মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করতে হবে। সুবিচার যে ইসলামের আবশ্যিক বৈশিষ্ট্য সেটিকে মাথায় নিয়ে কাজ করতে হবে। একইভাবে নারীবাদী, সেক্যুলার, মুসলিম সকলেরই এক মঞ্চে দাড়ানোর বহু ইস্যু আছে যেমন নারীশিক্ষা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থানগ্রহণ, মানুষ হিসেবে নারীর প্রতি আচরন, নারী দেহকে পন্য হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে অবস্থান। এই সকল ইস্যুতে সকলকে এক মঞ্ছে দাড়াতে হবে। ইসলাম এবং মুসলিম নারীর সমস্যাবলীকে সরলরৈখিক এবং একক মাত্রায় বিবেচনা করা থেকে বের হয়ে নিজস্ব সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। পাশ্চাত্য অনুকরন থেকে বের হয়ে নারীবাদীদেরকে প্রেক্ষিত বিবেচনা করে সমাধান দিতে হবে। তাহলেই, নারীবাদীরা ইসলামের বিরুদ্ধ অবস্থান এবং মুসলিমরা নারীবাদীদের বিরুদ্ধে অবস্থানগ্রহণ থেকে বের হয়ে এক মঞ্চে দাড়াতে পারবে।

 

 নারীরা

  

 

 

১টি মন্তব্য

তালহা জুবায়ের
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

একইভাবে নারীবাদী, সেক্যুলার, মুসলিম সকলেরই এক মঞ্চে দাড়ানোর বহু ইস্যু আছে যেমন নারীশিক্ষা, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে অবস্থানগ্রহণ, মানুষ হিসেবে নারীর প্রতি আচরন, নারী দেহকে পন্য হিসেবে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে অবস্থান। এই সকল ইস্যুতে সকলকে এক মঞ্চে দাঁড়াতে হবে।

এই আহ্বানের বাস্তবায়ন ঘটলেই তো বিশ্বের নারীবাদীদের ফাঁকা বুলি আওড়ানোর সম্ভাবনা স্তব্ধ হয়ে যাবে। তাই আপাত দৃষ্টিতে মুসলিম কমুনিটি অার সেকুলার-নারীবাদী কমুনিটির মিলিত আন্দোলন অসম্ভব।

আলী আহসান জোনায়েদ