লেখা

রাজনীতি বা পলিটি সংক্রান্ত ইসলামী ধারনার একটি পর্যালোচনা
রাজনীতি বা পলিটি সংক্রান্ত ইসলামী ধারনার একটি পর্যালোচনা
লিখেছেন রিয়াজ হাসান
১১ জানুয়ারি ২০১৬

এই প্রবন্ধটি মূলত মুক্তাদির খান রচিত ইংরেজিতে লেখা একটি বৃহৎ একাডেমিক আর্টিকেল থেকে বাছাই করে মূলভাব অক্ষুন্ন রেখে আলাদাভাবে সাজিয়ে লেখা হয়েছে। মুক্তাদির খান মোটামোটি সরলরৈখিকভাবে পলিটির ব্যাপারে ইসলামের উল্লেখযোগ্য চিন্তাগুলোর বিশদ বর্ণনা করেছেন। এখানে বিভিন্ন সুপ্রসিদ্ধ ইসলামী দার্শনিক, ইমাম, মুফাক্কির ও ফকিহদের চিন্তার আলোকে ইসলামের রাজনৈতিক দর্শনের পত্তন ও ক্রমবিকাশের একটা ধারা পাওয়া যায় যেটা পরবর্তী যেকোনো নতুন বিনির্মাণ বা পুনর্জাগরণী উদ্যোগের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ভিত্তিপ্রস্তর।

আল ফারাবী (৮৭২-৯৫০খ্রিঃ) এর মতানুযায়ী, যেহেতু গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং বহুমত স্বীকৃত হয়, তাই সেখানে ভাল এবং মন্দ উভয় ধরণের মানুষ থাকবে। কিন্তু গণতন্ত্র থেকে পরিপূর্ণতা সাধন করা সম্ভব কারণ গণতন্ত্রের মাধ্যমেই জাহেল ও অজ্ঞ সমাজকে পূণ্যবান সমাজে পরিণত করা সবচেয়ে অধিকতর সহজ।

অজ্ঞ সমাজ বলতে এখানে সেসব শহরকে বোঝানো হচ্ছে যারা সামষ্টিকভাবে আল্লাহ সম্পর্কে অসচেতন (প্রথম কারণ)। তাদের কোন ঐক্যবদ্ধ উদ্দেশ্যও নেই। তিনি এও স্বীকার করেছেন যে, গণতন্ত্র যেহেতু মতামতের স্বাধীনতা দেয়, তাই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিভিন্ন নাগরিকের বিভিন্ন রকম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকবে। তিনি আরও বলেছেন যে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রভাবশালী লোকেরা যদি শান্তির পক্ষে থাকে, তাহলে সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র যুদ্ধবিরোধী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

ইবনে তাইমিয়া মনে করতেন যে, সৎ কাজের আদেশ ও খারাপ কাজে নিষেধ করার মত ইসলামী দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় ইসলামী রাষ্ট্রের অস্তিত্ব না থাকলে। এছাড়াও পাপচার ও আল্লাহর অবাধ্যতার বিরুদ্ধে জিহাদ, ইসলামী আইনের প্রয়োগ এবং সামষ্টিক দায়িত্ব যেমন সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যও রাষ্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতা প্রয়োজন। যেহেতু ধর্মীয় আইন কানুনকে বাস্তবে প্রয়োগের জন্যই ইসলামী রাষ্ট্র অপরিহার্য, তাই ইসলামী রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাকে ধর্মীয় দায়িত্ব বলে তিনিই প্রথম যুক্তি প্রদান করেন। পূর্বের অন্যান্য ইসলামী চিন্তাবিদ যেমন আল ফারাবীর মত, "রাজনৈতিক উৎকর্ষতার জন্য ধর্মীয় জ্ঞান প্রয়োজন" এর বিপরীতে ইবনে তাইমিয়া মত দেন যে, "ধর্মীয় উৎকর্ষতার জন্যই রাজনৈতিক ক্ষমতা অপরিহার্য"।

ইবনে খালদুন এর তত্ত্ব অনুযায়ী, রাষ্ট্র ও সভ্যতার দ্বৈত সম্পর্ক আছে। রাষ্ট্র একইসাথে সভ্যতা গঠনের মাধ্যম, আবার সভ্যতার চরিত্র অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় চরিত্র গঠিত হয়। ইবনে খালদুনের 'কী কনসেপ্ট' বা মূল তত্ত্বটি ছিল "জাতীয় সংহতি"। তিনিও আল ফারাবীর মত মনে করতেন যে, একক লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের জন্য সামষ্টিক সম্মিলিত আকাঙ্খার বহিঃপ্রকাশই হল একটি রাষ্ট্র। সাধারণ্যে গৃহিত কিছু স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে যেই গোত্রীয় সংহতি তৈরী হয়, সেটাকেই "আসাবিয়্যাহ" বলে। ইবনে খালদুনের ইসলামী রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট তত্ত্বটি মূলত আলোচনা করে যে কিভাবে যাযাবর ও গ্রামীন জীবনে অভ্যস্ত গোত্রগুলো কিভাবে আত্মীয়তার সম্পর্ক ও আইনের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং যখন এই "আসাবিয়্যাহ" একটি ভূখন্ড দখল করতে সক্ষম হয়, তখন সেটা রাষ্ট্রব্যবস্থায় রূপ নেয়। যখন শহুরে জীবনধারা ও শহর বিকশিত হতে থাকে, তখন এমন একটি সভ্যতা ও সংস্কৃতি যাত্রা শুরু করে, যাতে একাধারে পরিতৃপ্তি এবং অন্যদিকে দূর্নীতি বিস্তার লাভ করে। এবং এর ফলেই রাষ্ট্রীয় সংহতি বিনষ্ট হয়। ইবনে খালদুনের মতানুযায়ী রাষ্ট্রগঠনের ৫টি পর্যায় রয়েছে -

১। যাযাবর ও গোত্রীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যেকার সংহতি, যেটা ভূখন্ড বিজেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

২। ভূখন্ড দখলের মাধ্যমে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থার গোড়াপত্তন, যাতে গোত্রীয় প্রধানই হবেন রাষ্ট্রপ্রধান।

৩। ক্ষমতা ও সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করা এবং শহর প্রতিষ্ঠিত করা।

৪। সংস্কৃতি, সভ্যতার বিকাশ ও নাগরিকদের মানসিক পরিতৃপ্তি ব্যাপ্তিলাভ করা, যেহেতু এই রাষ্ট্রের নাগরিকেরা এই সভ্যতা, সংস্কৃতির ফলভোগ করে থাকে।

৫। সংহতি ও রাষ্ট্রের পতন অথবা রাষ্ট্রের সীমান্তে অন্য গোত্রের হামলার আশঙ্কা বৃদ্ধি পাওয়া, যেই গোত্র তাদের সংহতি ও ঐক্য বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হওয়ায় বিজেতা হবার আকাঙ্খী হয়। ইবনে খালদুন আরো বলেছেন, গোত্রীয় সংহতি ও ঐক্য যদিও "আসাবিয়্যাহ" এর মত কাজ করতে পারে কেবলমাত্র রাষ্ট্রগঠন ও গ্রামীন জীবনের পর্যায়ে, কিন্তু যেই উপাদানটি সভ্যতাকে জীবন্ত ও ক্রমবিকাশমান রাখতে পারে তা হলো "ধর্ম"। রাষ্ট্রীয় ভূখন্ডটিকে নিরাপদ রাখতে যেই পরিমান সংহতি প্রয়োজন এবং সভ্যতার সাংস্কৃতিক গতিপ্রবাহকে টিকিয়ে রাখতে যেই উপাদান প্রয়োজন, তা কেবল ধর্ম থেকেই পাওয়া যেতে পারে। এই অর্থে, ইবনে খালদুনও আল ফারাবীর মত ধর্মকে রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য বলে সাব্যস্ত করেছেন।

উসমানী

ইসলামি রাষ্ট্র এবং খিলাফাহ, যদিও কিছুটা সাদৃশ্য রাখে, আসলে বহু বৈসাদৃশ্য রয়েছে এই দুয়ের মধ্যে। সর্বপ্রথম এই স্বীকৃতি দিয়েছিলেন বিশিষ্ট মুসলিম চিন্তাবিদ রাশিদ রিদা। তিনি বলেছিলেন যে, খিলাফাহ পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করা অসম্ভব, যার কারনে তাঁরা সীমিত আকারের খিলাফাহর ধারণা মেনে নিয়েছেন, যেই ধারণা কলোনী উত্তর যুগের জাতিরাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং "ইসলামী রাষ্ট্র" এর ধারণাকে সামনে নিয়ে আসে। ইসলামী রাষ্ট্রের তত্ত্বটি মূলত জাতি-রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয় এবং সমগ্র মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক একত্রীকরণের ইউটোপিয়ান ধারণাকে ত্যাগ করে।

বর্তমান যুগের প্রভাবশালী তাত্ত্বিকদের মধ্যে তাকিউদ্দিন নাবহানী খিলাফাহর পুনর্জাগরণের জন্য আহবান জানান, যিনি হিজবুত তাহরীরেরও প্রতিষ্ঠাতা। তিনি খিলাফাহ আন্দোলকে একটি চিন্তাগত কাঠামো দান করেন। তিনি খিলাফাহর বৈশিষ্ট্য নিয়ে এমন একটি ন্যারেটিভ প্রণয়ন করেন, যার অবস্থান ঐতিহাসিক বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, ব্রিটিশ এবং তুর্কিরা খিলাফাহ ধংস করার আগ পর্যন্ত পুরা মুসলিম বিশ্ব এক শাসনের অধীন ছিল। কিন্তু একই সাথে তিন খিলাফাহর অস্তিত্ব, যেমন - দশম ও একাদশ শতাব্দীতে বাগদাদে আব্বাসী খিলাফাহ, মিশরে ফাতিমী শাসন এবং স্পেনে উমাইয়্যা খিলাফাহর যুগপৎ শাসন অথবা পরবর্তীতে বিভিন্ন মুসলিম শাসক এবং রাজতন্ত্রের মধ্যে চলা লম্বা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, এবং ভারতবর্ষে মুগল ও ইরানে সাফাভীদের একই সময়ে চলা রাজতন্ত্র তাঁর এই দাবিকে নাকচ করে দেয় যে ১৯২২ সালের আগ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ ও একক খিলাফাহ চলছিল।

তিনি যদিও মনে করতেন যে, খিলাফাহ প্রতিষ্ঠা করা সব মুসলিমের দায়িত্ব এবং এর মাধ্যমেই ইসলামী সভ্যতা তার হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবে। কিন্তু তিনি ব্যাখ্যা করেননি যে কিভাবে, (তাঁর ভাষায়) খিলাফাহর উপস্থিতিকালীন সময়েই মুসলিমরা তাদের ঐতিহ্য হারিয়ে বসে।

আন নাবহানীর লেখা "ইসলামী রাষ্ট্র" বইয়ে অসংখ্য ঐতিহাসিক অসংগতি রয়েছে। বইটিতে "ইসলামী রাষ্ট্রের তত্ত্ব" বিশ্লেষণের পরিবর্তে মূলত মুসলিমদের অধঃপতিত অবস্থার কারনে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশই বেশি। এই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আরো বেশী প্রকট হয়, যখন তিনি "ইসলামী রাষ্ট্র" এবং "বৈশ্বিক খিলাফাহ" শব্দ দুটিকে বারবার একটির পরিবর্তে আরেকটি ব্যবহার করেন। তিনি একটি সংবিধানের নমুনা পেশ করেন, কিন্তু এতে উদার গণতান্ত্রিক ধারণা এবং ইসলামী ধারণার অদ্ভুত সংমিশ্রন ছিল। আন নাবহানীর ধারণাটির বর্তমান ধারক বাহক হলো  মূলত গণতান্ত্রিক অধিকার বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ মুসলিম যুবকদের কিছু সমষ্টি, যারা এর মাধ্যমে পশ্চিমা আধিপত্য ও উম্মাহর শক্তিহীনতার বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ জানায়।

আল্লামা ইকবালের মতে, ইসলামী রাষ্ট্র হলো মুসলিমদের আধ্যাত্মিক বিকাশের প্রকাশ, যা কিনা জীবনের সকল দিক ও বিভাগে, এমনকি রাজনীতিতেও উৎকর্ষতা নিয়ে আসে। তিনি ইসলামী রাষ্ট্রকে মুসলিমদের পরিপূর্ণতা সাধনের সর্বোচ্চ বিন্দু এবং আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সমর্পন হিসেবে বিবেচনা করতেন। তিনি ইসলামী রাষ্ট্রকে মুসলিম ব্যক্তিসত্তা ও ইসলামী সভ্যতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যম মনে করতেন। মাওলানা মওদূদী ইসলামী রাষ্ট্রকে চিন্তা করতেন আদর্শবাদী একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে, যেটি পৃথিবীতে "আল্লাহর সার্বভোমত্ব" (আল-হাকিমিয়্যাহ) প্রতিষ্ঠা করবে। এটিই ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের উপর সবচেয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। মওদূদীর মতে, ইসলামী রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য হল, আল্লাহর হুকুমকে বাস্তবায়িত করা, এবং এটা করা হবে শরীয়াহকে ভূখন্ডের আইনের উৎস হিসেবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে। মওদূদী এবং ইকবাল উভয়েই ইসলামী রাষ্ট্রের ভূখন্ডগত সীমারেখা কে মেনে নিয়েছেন, যেটি উম্মাহর বৈশ্বিকতা তত্ত্বের বিপরীত এবং তারা গণতন্ত্রকেও কিছু পরিবর্তন পরিবর্ধন সাপেক্ষে মেনে নিয়েছেন। ইকবালের মতে যারা শুধুমাত্র মেধা, মনন ও জ্ঞানে অগ্রগামী তাদের মধ্যেই গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহনের ভার অর্পিত করা যাবে। আর মওদূদীর মতে, গণতন্ত্র হতে হবে শরীয়ার অনুগামী। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মেনে নিলেও গণতান্ত্রিক স্পিরিটকে মেনে নেননি।

৫টি কমন এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, যেগুলোর ব্যাপারে সকল তাত্ত্বিকেরা একমত ছিলেনঃ

তারা প্রত্যেকেই ইসলামী রাষ্ট্রকে একটি আদর্শবাদী কাঠামো মনে করেন, যা মুসলিমদেরকে পশ্চিমা আধিপত্য থেকে রক্ষা করবে। এই সমস্ত তাত্ত্বিকদের মতে সাম্রাজ্যবাদী, জুডায়ো খ্রিষ্টান এবং ইসলাম বিরোধী পশ্চিমই ছিল মূল শঙ্কা।

প্রথমবারের মতো, ইসলামিক তাত্ত্বিকেরা উপলব্ধি করেন যে, ধর্ম আর রাজনীতি পৃথক কিছু নয়। এবং এর মাধ্যমে ইসলামী রাষ্ট্রই হয়ে ওঠে ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রত্যাখ্যান করার বাহন।

১। ইসলামী রাষ্ট্র হল এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যাতে একমাত্র এবং কেবলমাত্র আল্লাহই সার্বভৌম। এবং এই ধারণা পশ্চিমা গণতন্ত্রের সাথে সাংঘর্ষিক, যেখানে মানুষের ইচ্ছাকে সার্বভৌম হিসেবে স্বীকার করা হয় এবং এর মাধ্যমে আধ্যাত্মিক নৈতিক গুণাবলী দ্বারা রাজনীতি পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।

২। ইসলামী রাষ্ট্রের আদর্শিক উদ্দেশ্য হলো, এর ভূখন্ডের মধ্যে শরীয়াহ প্রবর্তন করা, এবং এর ভূখন্ডের বাইরেও ইসলামকে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রচেষ্টা (জিহাদ) অব্যাহত রাখা।

৩। প্রায় সমস্ত ইসলামী তাত্ত্বিকেরাই (মওদূদী, কুতুব, ইকবাল, রাশীদ রিদা, খোমেনী) গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাসক ও আইন প্রনয়নকারী নির্বাচনকে এমনকি সামষ্টিক সিদ্ধান্ত গ্রহনকেও মেনে নিয়েছেন, যদিও তাঁরা সকলেই গণতান্ত্রিক স্পিরিট ও আদর্শের সমালোচক। অর্থাৎ, তারা প্রত্যেকেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে মেনে নিয়েছেন, কিন্তু গণতান্ত্রিক স্পিরিটকে নয়।

৪। আন নাবহানী (যিনি কিনা আল মাওয়ারদীর আধুনিক সংস্করণ) ব্যতীত অন্য সকল তাত্ত্বিকদের বিশ্লেষনই হল ইবনে তায়মিয়ার ধারণার আধুনিক সংস্করণ। তারা প্রত্যেকেও ইবনে তাইমিয়ার মতই যুগ প্রত্যক্ষ করেছেন, যেখানে মুসলিমরা পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন দেখেছে এবং নিজেদের মুসলিম ব্যক্তিসত্তার ক্রাইসিস ও পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রভাবে গ্লোবালাইজেশনের প্রভাব ও প্রত্যক্ষ করেছেন। ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণা "আল্লাহর সার্বভৌমত্ব", পশ্চিমা প্রাধান্যের মোকাবেলায় প্রতিরোধ আন্দোলন পরিচালনার আরেকটি মূলমন্ত্র, যেটি কিনা ডিকলোনাইজেশন পরবর্তী যুগেও অব্যাহত রয়েছে। 

রিয়াজ হাসান