লেখা

সোনালি মিনারের ঘর
সোনালি মিনারের ঘর
০৯ অক্টোবর ২০১৫

প্রতিদিন মধ্যরাতে দুঃস্বপ্নে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়
আমি অনুভব করি, আমার বুকের মাঝে ভারী বুটের তুফান তুলে কেউ হেঁটে যায়
ওরা আমাকে গ্রাস করতে আসে , গ্রাস করতে আসে আমার হৃদয়
আমার সোনালি মিনারের ঘর, আমার পবিত্র আমানত
আমার রাসুলের ঊর্ধ্বাকাশে গমনের চিহ্ন, আমার পবিত্র পানির নহর
তারা মাড়িয়ে যায় আমার পবিত্রভূমী, আমার হৃদপিণ্ড
আমার পৃথিবী জুড়ে থাকা স্বর্গের মরূদ্যান

তারা আমাকে ক্রন্দনরত শিশুর কথা মনে করিয়ে দেয়
যাকে ওরা বিধ্বস্ত ঘর থেকে আকাশের সামনে ফেলে দিয়েছে
তারা আমাকে সাব্রা আর শাতিলার কথা মনে করিয়ে দেয়
যেখানে ডানা ভাঙ্গা হাজার পায়রার লাশ আমাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দেয়
তারা আমাকে আনত হাজার কাপুরুষের দিকে দৃষ্টি দিতে বাধ্য করে
যারা কুকুরের মতো নিজের দেহকে ক্ষত বিক্ষত করে

আমি আমার হৃদয়ে ঘণ্টাধ্বনি শুনতে পাই,
তারা আমাকে পবিত্র সত্তার মতো আহবান করে
তারা আমাকে আহবান করে কওমের ইজ্জতের কসম দিয়ে
তারা আমাকে আহবান করে আল আকসার কসম দিয়ে
তারা আমাকে আহবান করে পবিত্র ভুমির কসম দিয়ে
তারা আমাকে আহবান করে ফিলিস্তিনের কসম দিয়ে

আমার বিশ্বাস আমাকে আজ প্রলুব্ধ করে চেতনার দিকে
আমাকে তারা বিধ্বস্ত জনপদের গান শোনায়,
আর জলপাই বাগানের বাতাসেরা আমাকে জাগিয়ে তোলে

আমি পাথর হাতে এগিয়ে যাই
আমি পাথর নিক্ষেপ করতে এগিয়ে যাই
আমি পাথর হাতে রক্তাক্ত হয়ে যাই
আমি পাথর নিক্ষেপ করতে করতে পাথর হয়ে যাই,

আমি দুঃস্বপ্ন পেরুতে পেরুতে বিমর্ষ চোখে দেখতে পাই
আমাকে ঘিরে রেখেছে ধবল বকের দল, মৃত্যুর ফেরেশতা
আর আমার আততায়ীদের চোখে, মুখে, হাতে
বিবেক আর লজ্জার ছাপ হয়ে আমার রক্তের দাগ লেগে গেছে
তারা যেন আমাকে অতি যত্নের সাথে
বিশ্ব শান্তির সাবান দিয়ে ঘষটে ঘষটে তুলে ফেলতে চায়

আমি আমার হৃদয়ে রক্তপাতের শোর শুনি
প্রত্যেক রাতে আমি দুঃস্বপ্নে জেগে উঠি
আমি অনুভব করি, আমার বুকের মাঝে ভারী বুটের তুফান তুলে কেউ হেঁটে যায়
ওরা আমাকে গ্রাস করতে আসে , গ্রাস করতে আসে আমার হৃদয়
আমার সোনালি মিনারের ঘর, আমার পবিত্র আমানত