বই পর্যালোচনা

The Myth of Religious Violence: Secular Ideology and the Roots of Modern Conflict.
দ্য মিথ অফ রিলিজিয়াস ভায়োলেন্সঃ সেকুলার আইডিওলজি অ্যান্ড দ্য রুটস অফ মডার্ন কনফ্লিক্ট
পর্যালোচনা করেছেন আদনান মাসরুর
১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

ঔপনিবেশায়নের কালে রিলিজিওনের একখানা এসেনশিয়ালিস্ট পশ্চিমা ধারণা কিভাবে ঔপনিবেশায়িত সমাজগুলোর উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে এই বইয়ে আলাপ করা হয়েছে। ধর্মের এসেনশিয়ালিস্ট সংজ্ঞায়ন নিয়ে খোদ পশ্চিমেও মতবিরোধ আছে। ধর্ম অন্তর্গতভাবে সহিংস- এইরকম একটা মিথ ডোমেস্টিক লেভেলে রিলিজিয়াস প্র্যাকটিস ও রিলিজিয়াস গ্রুপগুলোকে প্রান্তিক করার বৈধতা দেয়।

একইভাবে, ধর্ম অন্তর্গতভাবে সহিংস- এই মিথ নন-সেক্যুলার সমাজগুলোতে আগ্রাসনের বৈধতাদানকারী ডিসকোর্স হিসেবে কাজ করে।  এই ব্যাপারটা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলাপ এই বইতে আছে। এই সমাজগুলো যেহেতু ( তাদের ভাষায় সহিংস) ধর্মভাবমুক্ত হইতে পারে নাই তাই বোমা মেরে হলেও এদের লিবারেল ডেমোক্রেসিতে দাখিল করানোর বার্ডেন অনুভব করে সেক্যুলার লিবারেলিজম।

"বিপজ্জনক" ধর্মীয় সহিংসতার বিপরীতে সেক্যুলার সহিংসতা হাজির হয় মহান শান্তিআনয়নকারী হিসেবে। নিজেকে মহান, সভ্য, শান্তিকামী আকারে দেখাতে সেক্যুলারিজমের যে অপর প্রয়োজন তার নির্মাণে ধর্মীয় সহিংসতার মিথ সাহায্য করে।

তবে সবচাইতে ইন্টেরেস্টিং হলো তৃতীয় চ্যাপ্টারটি। আধুনিক রাষ্ট্রের উদ্ভবের একখানা ক্রিয়েশন মিথ বা জন্ম পুরান আছে। ইউরোপে ষোড়শ/সপ্তদশ শতকে যে "ওয়ারস অফ রিলিজিয়ন" সংঘটিত হয় তার সমাধানে ধর্মকে প্রাইভেট করার মাধ্যমে আধুনিক সেক্যুলার রাষ্ট্র ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হয় বলে এই মিথ দাবি করে। এইখানে যে অনুমান কাজ করে তা হলো এই যুদ্ধগুলো মূলত ধর্মীয় মতভিন্নতার জন্য সংঘটিত হয়েছিলো। লেখক ঐতিহাসিক তথ্য উপাত্ত দিয়ে বইটাতে দেখাচ্ছেন এই যুদ্ধগুলোতে ক্যাথলিকরা ক্যাথলিকদের বিরুদ্ধে এবং লুথারিয়ানরা লুথারিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়েছে; ক্যাথলিক -প্রোটেস্টান্ট ঐক্য্ও কিছু জায়গায় হয়েছিল।  ফলে যুদ্ধের কারণ হিসেবে ধর্মীয় মতভিন্নতার বিষয়টা আর ধোপে টিকে না ; আধুনিক রাষ্ট্রের ত্রাতা হওয়ার দাবিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সেক্যুলার পশ্চিমের জন্য এই ধর্মযুদ্ধ ন্যারেটিভের এক ধরণের বুনিয়াদি গুরুত্ব আছে। বলা হয়ে থাকে রিফরমেশনের পরে খ্রিস্টান দুনিয়া ক্যাথলিক/প্রোটেস্টান্টে ভাগ হয়ে পরস্পর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত হয় এবং আধুনিক রাষ্ট্র ধর্মের প্রতি আনুগত্য ব্যাক্তি জীবনে সীমাবদ্ধ করে ধর্মীয়ভাবে নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে ক্যাথলিক-প্রোটেস্টান্টদের এক করতে সমর্থ হয়। এর মাধ্যমে ধর্মীয় সহিংসতা থেকে মুক্ত করার ক্ষেত্রে আধুনিক রাষ্ট্র ত্রাতা হিসেবে হাজির হয়। এখন লেখকের বক্তব্য হচ্ছে যদি তা-ই হয়ে থাকে তাহলে আমরা ক্যাথলিক বনাম ক্যাথলিক কিংবা লুথারিয়ান বনাম লুথারিয়ান যুদ্ধ দেখবো না। কিন্তু ইতিহাস ঘঁাটলে দেখা যাচ্ছে এই ওয়ারস অফ রিলিজিওনেই ক্যাথলিকরা ক্যাথলিকদের বিরুদ্ধে, লুথারিয়ানরা লুথারিয়ানদের বিরুদ্ধে লড়েছে।

কিছু জায়গায় ক্যাথলিক-প্রোটেস্টান্ট ঐক্যও হয়েছে। এমন না যে ক্যাথলিক-প্রোটেস্টান্ট যুদ্ধ হয় নাই কিন্তু অন্য ঘটনাগুলো ধর্মীয় মতভিন্নতার কারণটা মুখ্য হওয়ার দাবিটাকে চ্যালেঞ্জ করে। দ্বিতীয়ত, ধর্মীয় কারণকে সামনে এনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক কারণগুলো আড়াল করা হয়। ধর্মীয় কারণ অন্যান্য কারণ থেকে আলাদা করার ব্যাপারটাই একটা মডার্ন ফেনোমেনা। বিতর্ক অবশ্যই আছে কিন্তু, এই ন্যারেটিভ সাম্প্রতিককালে বিশেষ করে "মধ্যপ্রাচ্যের" রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-ক্ষমতার সংকটকে ধর্মীয় সংকট আকারে দেখানোর যে ডিসকোর্স তাকে চ্যালেঞ্জ করার একটা রাস্তা বাতলায়।

 

ধর্মীয় সহিংসতার মিথ তৈরির রাজনীতি ছাড়াও আরো গুরুত্বপূর্ণ অনেক আলাপ এই বইতে আছে।