চিন্তার পর্যালোচনা

মালেক বিন নাবী
সাম্রাজ্যবাদের মনস্তত্ত্ব: 'ওরিয়েন্ট' নিয়ে মালেক বিন নাবীর চিন্তা -দ্বিতীয় পর্ব
পর্যালোচনা করেছেন শাহাদাৎ তৈয়ব
৩০ ডিসেম্বর ২০১৫

প্রথম পর্ব এখানে

 

আফ্রো

 

এক.

পশ্চিমের প্রতিভা আরো এক নতুন উপাদান নিয়ে আসে। সে চাইল সেখানে দখলদারিত্ব কায়েম করতে। কিন্তু মানুষের যে আসলে একটা নৈতিক দিক আছে, নৈতিক শক্তির ব্যাপার আছে সেটা সে বুঝতে চাইল না। ফলে সেটা তো আর কারিগরি বিদ্যা, শিল্পের বিস্তার এবং প্রযুক্তি নীতির উপর টিকে থাকতে পারে নাই। কারণ ইতিমধ্যে সেখানে স্বায়ত্ব শাসন এবং স্বাধীনতার ইস্যুতে সত্তরের দশকজুড়ে নানা জনঅসন্তোষ ও সামাজিক অস্থিরতা রাজনৈতিক মতায়নে একটা বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসে। পশ্চিমা শক্তি সেখানে তখন শাসক শ্রেণীর সাথে নতুন রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক কায়েম করে। একটা নতুন কৌশলে তাদেরকে তার নীতি ও সীমানার মধ্যে নিয়ে আসে। ফলে দেখা গেল কোনো জনঅসন্তোষই শেষ পর্যন্ত টিকল না। যে রাজনৈতিক শক্তিগুলা সেখানে মতাদর্শিক জায়গা থেকে পশ্চিমা শক্তির বিপরীতে দাঁড়াতে চায় তারা বারবারই প্রান্তিক হয়ে ওঠে।

 

কিন্তু পশ্চিমা শক্তি তার পুরানা জায়গা থেকে মোটেই সরে আসে নাই। কারণ তার পাথর্ক্যরে জায়গাটা খুবই স্পষ্ট যে, সে সব কিছু ছাপিয়ে যেতে চায়। মানবিক সংকটের নামেও তার সে ভেতরের চেহারা রাজনৈতিক রূপে পরিস্কার হয়ে ওঠে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সে পুঁজি ও অর্থনৈতিক ফায়দা হাসিল করে। কারণ  দেখা যায়, তার মানবিক তৎপরতাও যান্ত্রিক। যে মানদণ্ড ধরে তার শক্তিমান প্রকাশ সেখানে তার সকল তৎপরতার মধ্যে তার কর্তারূপই প্রধান হয়ে ওঠে। তার কোনো মানবিক তৎপরতাই সেখানে বুঝা যায় না। বিমূর্ত হয়ে ওঠে। মূর্ত শুধু তার প্রকাণ্ড চেহারা। ফলে বর্ণবাদ আরো কর্তৃত্বশীল হয়ে ওঠে ধর্ম এবং তার ইতিহাসের মধ্যে। কিন্তু তার চালিকা শক্তি সাম্রাজ্যবাদ। ধর্ম নয়। ১৯৫২ সালে প্রকাশিত  ঈষধঁফব খবার ঝঃৎধঁং  এর এ সম্পর্কিত বইটি পড়লে সেটি একদম পরিস্কার হয়ে যায়।

পশ্চিমের চিন্তা একটা সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার সাথে অবশ্যই নিবিড়ভাবে যুক্ত। যে কারণে যান্ত্রিক খেয়াল থেকে তার মুক্তি অসম্ভব। জটিল তো বটেই। তার এই সাংস্কৃতিক প্রক্রিয়ার সহজে মনোজগত ছেয়ে ফেলার মতো একটা মোহনীয় এবং আকর্ষণীয় শক্তি আছে। এর কারিগরি শক্তির প্রতিভা শিকলের মতো নৈতিক কাঠমোর উপর বল প্রয়োগ করে বেঁধে ফেলতে পারে। শিকল পরায়ে নিজের সংস্কৃতির খাঁচায় সে বন্দিত্ববরণ করায়।

 

শুধু তাই নয় তার আবার কিছু মহৎ ও ইতিবাচক গুণাবলিও আছে। এর সাথে তার বস্তগত সফলতা যুক্ত। এখানে পশ্চিমের একটা উদার মধ্যপন্থা দেখা যায় যার অনেক সুন্দর দিক আছে। মহাত্মা গান্ধিও সেদিকে বারবার ইংগিত করেছেন। তবে এই মহৎ দিকগুলো তার ভিতরের ইগোসেন্ট্রিজম ছাড়া সম্ভব না। এই ইগো ছাড়া তার আর কোনো আলো নাই। শক্তি নাই। পশ্চিমের জ্ঞান বিশেষত লিভি পেট্রাউসের দৃষ্টিতে এই বিশেষ অবস্থাকে বিবেচ্য করে না। অর্থাৎ নৈতিকতার আমি আর তার কর্তা সত্তা সুনির্দিষ্ট অবস্থাকে বিবেচ্য করে না। তাহলে পশ্চিমের যত ফজিলতই থাকুক সেটা আর বিশ্বের সাথে যায় না। যেতে পারে না। তার আলো তারই। অপর বিশ্ব শুধু তার আলো গ্রহণ করে মাত্র। এমনকি সে ইউরোপীয় সীমানারও বাইরে থাকে। ফলে খোদ ইউরোপও মানুষ না। ইউরোপীয় মাত্র। সে সারা বিশ্ব ব্যাপী বিরাজ করে। পর্যটক যেমন তাবু নিয়ে চলে। সেও তেমনি যেখানে ইচ্ছা নির্মাতা, স্থপতি, কারিগর, ব্যবসায়ী কিংবা সাংবাদিক হিসাবে সাম্রাজ্যবাদের কর্তা হিসাবে অথবা শুধুই পর্যটক হয়ে নানান দেশে নানান রাষ্ট্রে রাজনীতি করে যাচ্ছে। আসলে সে যা ইচ্ছা করে  আর যা ইচ্ছা করে না এর পুরাটাই হলো “সাম্রাজ্যবাদি পরিস্থিতি”।

 

উনিশ শ পঁতাল্লিশের একেবারে পরের সময়টায় ইউরোপ থেকে পশ্চিমকে ধারণা আকারে আলাদা মনে হয়েছিল। সেটা নিশ্চয়ই রাজনৈতিক কারণে। সে সময় ইউরোপের সাথে পশ্চিমের সম্পর্ক সততা বা নৈতিকতা ও মতাদর্শিক ছিল না। সম্পর্কটা অর্থনৈতিক, প্রশাসনিক ও পর্যটনিক ছিল। কোনো কোনো অবস্থায় কৌশলগতও। তারা তখন শুধু সাম্রাজ্যবাদের প্রজা। আবার তার পারমাণবিক বোমার আহারও বটে।

 

এখন এই অবস্থা থেকে মুক্ত হওয়া রাজনৈতিকভাবে সম্ভব না। কারণ চলমান রাজনীতির সাথে এখন জগতব্যাপী নৈতিক নেতৃত্বের প্রশ্ন চলে আসছে। ফলে নিছক অর্থনৈতিক চিন্তা-মতাদর্শ দিয়ে কোনো ফলাফল পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্তত বৃটিশ সাংবাদিক কিংসলি মার্টিন এর নয়া চীন সম্পর্কিত বইটি পড়লেও তাই মনে হবে।

 

জটিল যে অবস্থাগুলো গত পঞ্চাশ বছর ধরে চলতেছে সেখানে আমেরিকার বিজয় কেন বিশেষত আফ্রো এশিয়ায় সম্ভব না তার সবচেয়ে বড় আলামত হলো এখানকার পুরা জীবন প্রক্রিয়ায় রাজনীতি এবং নৈতিকতাকে আলাদা করে দেখা সম্ভব না। এটা প্রচ্ছন্নভাবে ধর্মের মধ্যে হাজির হলেও রাজনৈতিক হয়ে ওঠার বহু সম্ভাবনা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। 

 

যেকারণে তখন পশ্চিমা শক্তিকে নৈতিক বোঝাপড়ার মুখোমিুখ হতে হয়। নৈতিক শক্তির মনোস্তত্ত্ব মোকাবেলা করার কারণে দেখা গেল পশ্চিমা বিরোধী যে সম্ভাব্য শক্তির আলামত দেখা গেল সেটা আসলে শেষ পর্যন্ত সাম্রাজ্যবাদেরই লায়েক হয়ে ওঠলো। তবু এই সম্ভাবনাকে ধরে বানদুং সম্মেলনের প্রস্তাবে দশ বছরের একটা পর্যায়ে নৈতিক-সাংস্কৃতিক এবং মনোস্তাত্ত্বিক অস্থিরতার সাথে সম্পৃক্ত নানা ট্রাজেডিক প্রসঙ্গ চলে আসে। একইসাথে আফ্রোএশিয়দের একটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দিকে যাবার জন্য এই নৈতিক এবং সাংস্কৃতিক বিষয়কে প্রধান প্রশ্ন আকারে তোলা হয়।

 

নতুন সীমানাÑনতুন অঞ্চল নির্ধারণ, নতুন করে বর্ণবাদের উত্থান, বিশ্ব শক্তির ভারসাম্যহীনতা, অন্যদিকে ঠাণ্ডা যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়া বিশেষত সোভিয়েত রাশিয়ার উনিশ শ আটচল্লিশের সাতাশ জুনে বার্লিন অবরোধের ঘোষণা, আবার যখন এই হাওয়া কোরিয়ার দিকে গেল এরকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তখন তৃতীয় বিশ্ব কথাটা চলে আসলো। এই তৃতীয় বিশ্বের ধারণা আরো অনেক বিপজ্জনক করে তুলল পুরা পরিস্থিতি। একটা নতুন অবস্থাও তৈরি হলো রাষ্ট্রের নীতি যখন যুদ্ধ ভিত্তিক কৌশল ও কাঠামোর বৈশিষ্ট্যের জায়গা থেকে গ্রহণ করা হতো সেখান থেকে একটা নতুন ছেদ ঘটে গেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্য দিয়ে। কূটনৈতিক তৎপরতার একটা পালাবদল ঘটল। অর্থাৎ উপনিবেশ থেকে যখন বিশ্ব শক্তির বেরিয়ে আসার একটা ফয়সালা হলো তখন অন্যবিশ্বের সাথে নতুন খাসিলতে হাজির হলো বিশ্বশক্তির কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। এটা একটা বড় ধরনের ঘটনা। যুদ্ধ প্রকৌশল থেকে আপাতত বেরিয়ে আসার জন্য, কিংবা উপনিবেশ যুগ থেকে বেরিয়ে আসার দিক থেকে এটাকে দেখলে চলে না এর সাথে আসল ব্যাপার জড়ানো অপর বিশ্বের সাথে যেটাকে উপনিবেশ বলা হতো সেখানে রাজনৈতিক নীতি বা পররাষ্ট্র নীতি কী করে নির্ধারিত হবে তারই প্রক্রিয়া। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদ তো আর তার যুদ্ধের পুরনো বা মর্মগত দিক থেকে বেরিয়ে আসে নাই। কারণ মনে রাখতে হবে সে সময় কিন্তু বিশ্বশক্তির তরফে বলা হতো পরমাণু আসলে একটি শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় মাত্র। এরপরও এই নীতির কারণে আফ্রোএশিয়ার সাথে তাদের সম্পর্কের একটা নতুন স্তর ঘটলো যেটা আফ্রোএশিয়ানরাও চেয়েছিল। এর নামই হলো কমন কলনিয়ালিজম যার অপর নাম সাম্রাজ্যবাদ। কিন্তু নামে কি আসে যায়। তার প্রকৃতিতে কোনো মৌলিক রূপান্তর ঘটে নাই। মেনিলা, আটলান্টা আর বাগদাদ চুক্তির কথা কে না জানে। যেখানে তার সুন্দর নজির বিদ্যমান।

 

মহাত্মা গান্ধী কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে ইংরেজদের বিরোধিতা করে নাই। অহিংস নীতি ছিল তার প্রতিবাদ আর বিরোধিতার জায়গা। এর মধ্যে রণকৌশলগত পরিবর্তন এবং কূটনীতিতে তাদের নতুন পরিবর্তনের প্রভাব তো আছেই। কিন্তু গান্ধীর রাজনৈতিক বিজয় হয়েছে এটাই ঐতিহাসিক সত্য। তার অহিংস নীতির সাথে এই নৈতিক উচ্ছাসের একটা বড় দিকও আছে।

 

এখানে এক বড় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাও ঘটে গেছে সেটা হলো উনিশ শতকে বিশ্ব শক্তির নীতির দিক থেকে অপর বিশ্বের সাথে একটা নতুন সম্পর্কের শুরু হলো। আগে যে বাস্তবতা, যে নীতিকে প্রয়োগ করতো বিশ্বশক্তি এখন সেটা নতুন করে, নতুন কাঠামোয় নতুন ব্যাখ্যায় হাজির করছে। কিন্তু যেটা আসল ব্যাপার সেটা হলো, উপনিবেশিতরা সেটাই গ্রহণ করলো। মূলত রকমফের যা ঘটলো, সেটা হলো, আগে প্রত্যক্ষ উপনিবেশ ছিল। এখন সেটা পরোক্ষ হলো। কিন্তু তারা যে এখনো সেই উপনিবেশেই আছে অথবা আরো বড় ধরনের ভয়ংকর জায়গায় চলে গিয়েছে তারা এটা টের করতেছে না। আগের অবস্থাটা তারা মেনে নিতে পারছিল না। তারা এদের পূজা করতে পারছিল না। অথচ এখন তারা ইতিহাসের মূর্তিপূজা করছে। ফলে আফ্রোএশিয়ানরা যে নাট্যমঞ্চে প্রবেশের মাথাফাঁকা চিন্তা করছিল সেটা আরো স্পষ্ট হয়ে গেল। শুধু তাই নয় তারা এখন প্রভুদের লেজে ঝুলেও থাকতে পারে। তাতে সমস্যা নাই।

 

ফলে এই যে নতুন ঘটনা ঘটলো, তাতে দুটো বিষয় আপাত দেখা গেল; একটা হলো, নতুন বিশ্বশক্তিগুলোর ভাগাবাটোয়ারায় যে যে অঞ্চলের প্রভু হলো সেখানে তাদের কিছু নির্ধারণী উপাদান ও শর্ত ছিল যা আফ্রোএশিয়ানদেরকে আকর্ষণ করে। আরেক দিকে এমনকিছু উপাদান ও শর্ত আছে যা ধারণ করছে প্রভুরা। আসলে সেটা হলো এই যে মূর্খের আত্মতুষ্টি, উপনিবেশিতের দাসমনোবৃত্তি, নিজের আমিকে জাগিয়ে তোলার মনোভাবের মরণদশা সেটাই এই আফ্রোএশিয়ান জাতিগুলো গ্রহণ করেছিল, আর তার সাথে সাথে এই অবস্থাকে প্রভুরা গ্রহণ করেছে এই হলো সেই দুই উপাদান। আসলে জিনিস একই। গ্রহণকর্তা ভিন্ন হওয়ার কারণে দুই মনে হয়। উনিশ শতকে সেটাই করেছিল এই জাতিগুলো। নিজেদের উপর নিজেরাই উপনিবেশনের মন লালন করেছে। আর সেই উপাদানকে ঔপনিবেশবাদি প্রভুরা আমলে নিলো। কাজে লাগালো। ১৯৪৫ সালের ঘটনা থেকে এই দুই উপাদান নতুন আকারে বিকাশ হতে শুরু করল আফ্রোএশিয়ার অঞ্চলে। আফ্রোাশিয়ার জনগণ বনাম প্রভু, শক্তি বনাম অহিংসা, যুদ্ধ বনাম শান্তির অঞ্চল, বলপ্রয়োগের রণকৌশলগত রাজনীতি বনাম বিভিন্ন মিত্র বা আপোসকামী পক্ষ এবং উপনিবেশ বনাম আফ্রোশিয়া এই হলো এখানকার দ্বিতত্ত্বের চেহারা। 

 

এই যে আলাপ দুই পক্ষের তার পটভূমি জানা, তবে এর ফলাফল কী হবে এটা কিন্তু জানা যাবে কি না সন্দেহ। তবে এর ইতিবাচক একটা দিক তো আছেই সে ক্ষেত্রে নগদ লাভ হলো আফ্রিকান জাতি, দীর্ঘ দিনের সংকট থেকে উদ্ধার পেল। কিন্তু এটা যে শক্তিপ্রয়োগের কৌশলগত দিক সেখানে যে ইতিবাচক দিক সেটা কিন্তু নিছকই রাজনৈতিক। কিন্তু এই ইতিবাচকতা মোটেও আসল রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক দিকটাকে মুক্ত করবে না।

 

বান্দুং সম্মেলনে যে শান্তি আলোচনা হয়েছে সেটাও শান্তি কায়েম করবে না। বরং আগের যে অবস্থা হয়েছিল সেটাকেই নতুন আকারে আবার ফিরিয়ে আনা হলো। এখন অন্যভাবে শান্তির দোহাই দিয়ে সেটা করা তাদের জন্য আরো সহজ হয়ে গেল।  

 

বান্দুং সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল শান্তি এবং আফ্রোএশিয়ার অবকাঠামোর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করা। সে সম্মেলনে পশ্চিমা শক্তি তাদের অসৎ উদ্দেশ্য আবিস্কার করার চেষ্টা করল তারা বলল, এই শান্তি উদ্যোগ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নীতি পশ্চিমের বিরুদ্ধে। তারা পাল্টা যে বক্তব্য দিয়েছে তাতে সাম্রাজ্যবাদের দৃষ্টিভঙ্গিই মজবুতভাবে ধরা পড়েছে। এতে আফ্রোএশিয়ার শক্তিগুলো তাদের বিরোধিতা করলো। কিন্তু তারা তাদেরকে বিতাড়ন, অবরোধ এবং বঞ্চিতকরণের হুমকি দিল। যার ফলে তখন ফ্রান্স বলেছিল, ফরাসীদের ক্ষমতা যেকোনো স্বৈরাচীদের চেয়ে উত্তম। কিংবা নৈরাজ্যবাদ ও গৃহযুদ্ধের চেয়েও উত্তম। আসলে তাদের রাজনীতি আবর্তিত হতো পেট্রোল সহ আফ্রিকার প্রাকৃতিক সম্পদরে উপর আধিপত্য কায়েমকে কেন্দ্র করে।

কলোনী মাস্টার এবং কলোনইজ্ডদের সাথে সহবস্থানের কৌশল নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করা ছিলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম সাধারণ ফলাফল। উপনিবেশিতদের স্থানীয় যেকোনো নীতি ও আগে থেকে চলে আসা সামাজিক লেনদেনের রীতি ও আইনী ঐতিহ্য পরিবর্তন করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া ছিল তাদের অন্যতম কৌশল। এর ফলে তাদের মধ্যে প্রবেশ করা সহজ হয়ে যায়। কিন্তু সেখানে ইসলামী চৈতন্য জেগে ওঠার কারণে ঔপনিবেশিক ও সাম্রাজ্যবাদী প্রক্রিয়া নানা দিক থেকে প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। সাধারণের মাঝে একটা পরিবর্তনের শর্ত তৈরি হতে থাকে। অন্যদিকে আমোরিকা এবং ইউরোপ সেটার মোকাবেলার জন্য নানা রকম কৌশলও ঠিক করছে। সে সময়ের ফরাসী প্রেসিডেন্ট আফ্রিকায় গিয়ে তার এক বক্তব্যে বলেছিলেন, বাস্তবের পরিস্থিতি এখানে এক মারাত্মক ব্যাধি। কারণ, ইতিমধ্যে সেখানে ইসলামী শক্তির ক্রমাগত উত্থান হচ্ছিল। যাদের স্পষ্ট অবস্থান হলো, ইসলামী অর্থনীতি এই জনগোষ্ঠীর বিভ্রান্তকারী যেকোনো গোষ্ঠীকে বর্জন করবে। 

 

দুই.

বানদুং সম্মেলন যখন আফ্রোএশিয়ার রাষ্ট্রগুলার অঙ্গের সাথে নিবিড় ভাবে জড়ানো কিছু বিশেষ সমস্যার কারণ এবং শর্ত শনাক্ত করলো এবং একই সাথে এই জাতিগুলার এই দৃষ্টিভঙ্গি মোকাবেলা করার চেষ্টা করলো তখন আসলে তারা সভ্যতার পুঁজিবাদী চরিত্রকে প্রাধান্য আকারে বানাইল।

 

মানুষ, মাটি, সময় এই তিন জিনিস থাকে সভ্যতার মধ্যে। আবার এই তিন জিনিসেরই অনিবার্য ফলাফল হলো সভ্যতা। কিন্তু এই সভ্যতা কী করিতেছে? সে প্রধান করে তুলতেছে পুঁজিকে। পুঁজিকে সে অপরিহার্য করে তুলতেছে। অর্থাৎ পুঁজিও এর সাথে সম্পৃক্ত আসছে। তবে এর ভেতরকার আরেকটি জিনিস হলো শ্রম সত্তা। যার সাথে যুক্ত আছে নৈতিকতা। নৈতিকতা সহই শ্রম। অভিন্ন ঘটনা। এই যে তিন জিনিসের ফল হিসাবে যে সভ্যতাকে দেখানো হলো আর তার সাথে বেরিয়ে আসল পুঁজি তার একটি কর্তা শক্তি থাকতে পারে যাকে আপনি নৈতিকতা  বলতে পারেন। এটাকে বাদ দিয়া আপনি যখন শ্র্রমটাকে নেবেন তখন এই শ্রমের কোনো আকার থাকে না। এটা হয়ে যায় বিমূর্ত। অর্থ থাকে না। যেটা দিয়া আপনি একটা শক্তি বানাইতে পারবেন না। কোনো নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন ভাষা তৈরি করতে পারবেন না।

 

আসলে সম্মেলন যে কাজটি করে সেটা হলো, শর্তগুলোকে সে আমলে নেয়। অর্থাৎ যে পুঁজির পুঁজিকে ব্যবহার করার যাবতীয় তরিকা নির্ধারণ করা তারা জরুরি মনে করে। সম্মেলনের কাজের পর্যালোচনার ইশারা ছিল একটি সামগ্রিক পরিকল্পনার এবং নির্দেশনার চিত্র তৈরির দিকে যাওয়া।

 

এই পরিকল্পনার মধ্যে নিশ্চিতভাবেই নীতি গত দিক থেকে এমন সব বিষয় রয়েছে যা আসলে হয়ে ওঠার মতোই না। যেকারণে দেখা গেল খোদ সমস্যাই শেষ পর্যন্ত মানুষকে প্রতিহত করে যাচ্ছে।

সভ্যতা হলো মানুষ, মাটি ও সময়ের ফলাফল। সার। যখন ইতিহাসকে অভিজ্ঞতা এবং নিরীক্ষা এবং প্রয়োগের জায়গা হিসাবে ধরা হচ্ছে তখন এই সভ্যতার প্রাথমিক শর্তের বিশ্লেষণাাত্মক বিবেচনা থেকে সরে বাস্তব জটিল কাঠামো ও সম্পর্কের দিকে আসতে হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে সেখানে এই যে সংকট যেটা আসলে মানুষকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে সেখানে আমরাই এতো সুন্দর শর্ত এবং কারণ তৈরি করতেছি এই সংকট বানাইবার জন্য।

 

আফ্রোএশিয়ার সমাজের নমুনায় এটা ঘটতেছে তানজানিয়া থেকে জাকার্তা পর্যন্ত। তবে এই সমাজ বাস্তবতার গোড়ায় রয়েছে এমন একটা ব্যাপার যেটা সেখানকার সংস্কৃতির মূল উপাদান। কিংবা সাংস্কৃতিক মূল্য। এবং একইসাথে এটা মানুষের মর্মগত শর্তও বটে। আবার একই দিক থেকে এটা সভ্যতার সংকটের মধ্যে একটা চিন্তা এবং সংস্কৃতির দিক থেকে একটা মৌলিক ভাবনা। কিন্তু এই সাংস্কৃতিক সত্তার জায়গায় দাঁড়িয়ে বানদুং সম্মেলনে যেটা হয়েছে সেটা নিছক রাজনৈতিক বাগাড়ম্বর ছাড়া আর কিছুই না। সংবাদমাধ্যম গুলোতে এটা নিয়ে রাজনৈতিকভাবে অতিবাড়াবাড়ি হয়েছে। সাংস্কৃতিক ভাবে এবং রাজনৈতিক স্বার্থগত দিক থেকে কোনো না কোনো আফ্রোএশিয়ার জাতিগুলোর মধ্যে একটা সম্পর্ক থাকার কারণে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নীতিকে প্রধান করে যে সম্মেলন সেখানে সেটা সা¤্রাজ্যবাদের নীতি ও কৌশলের মধ্যে কীরকম পর্যবশিত হয়েছে সেটা পরবর্তী ইউনেস্কোর কার্যক্রম দেখলে পরিস্কার বুঝা যেত। কিন্তু আমাদের দিক থেকে বাকি থাকলো কতোগুলা বিষয় জানা কোন পরিস্থিতির মধ্যে সাংস্কৃতিক কাঠামো গড়ে ওঠার তথ্য বিনিময় ও সম্পর্ক কীভাবে ঘটেছে এবং আফ্রোএশিয়ার কাছে সাংস্কৃুতিক কারণ ও উপায়-উপকরণ তৈরিতে পরিস্থিতি ও শর্তগুলা কীভাবে কাজ করছে।

 আফ্রিকা

 

সাংস্কৃতিক বিনিময়টা হয়ত জরুরি। কিন্তু তারচে বড় প্রশ্ন হলো এর মানদন্ড- কী? পশ্চিমা নমুনার মধ্যেই কি এই সাংস্কৃতিক চিন্তা ও তার ভিত গড়ে তোলার অনুসরণীয় মডেল? তাহলে আমরা যা দেখেছি সেখানে তাই ঘটল। ওয়াশিংটন হয়ে এই সাংস্কৃতিক চিন্তা, কৌশল ও তৎপরতার মূল কেন্দ্র। এরপ মস্কো থেকে টোকিও। ফলে জ্ঞান, চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তির সংকট একই জায়গায় একইভাবে টিকে থাকলো। সেটা অবশ্যই রাজনীতির। কিন্তু সাংস্কৃতিক বিস্তার আর রাজনীতি সমার্থক হয়ে ওঠায় সেটা আরো পরিপূর্ণ হয়ে ওঠলো। তাদের সংস্কৃতির আধিপত্য ভয়ংকর রকম বেড়ে গেল। সেই পরিস্থিতি আমরা দেখেছি জেনেভা চুক্তি থেকে পারমাণবিক পর্যায় পর্যন্ত। এই অবস্থার সরাসরি সম্পর্ক ও অভিমুখ হয়ে ওঠে মস্কো এবং ওয়াশিংটন।

 

এই বিমিময়টার একটা ইতিবাচক দিক আছে যার মধ্য দিয়ে একটা ব্যাপক বৈশ্বিক সম্পর্ক তৈরি হওয়ার স্বপ্ন দেখা যায়। নতুন কিছু টের করা যায়। কিন্তু এই পশ্চিমকে ভর করে যে সংস্কৃতি তার বিস্তারের প্রক্রিয়া এবং গোড়ার জায়গা নিয়া গুরুতর প্রশ্ন আছে। একদিক থেকে এর বড় কারণ হলো বিশ্বব্যাপী বিস্তারের নামে আধিপত্যবাদী এবং গোলামীর সাংস্কৃতিক মনোস্তত্ত্ব গড়ে তোলা। একইসাথে এর উদ্দেশ্য ও বিস্তারের বাস্তবতা বৈশ্বিক হলেও কিন্তু আসলে তার মর্মশ্বাঁস সীমাবদ্ধ ও ক্ষুদ্র। এবং তার এর নিশ্চিত যুক্তি সেখান থেকে মতাদর্শগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে তার প্রভাব ও শক্তির পরিসরও ব্যাপক। কিন্তু আমাদের তরফে কাজ হলো তাদেরকে বুঝাবুঝির ক্ষেত্রে নিজেদের এমন একটা সীমায় নিয়া যাওয়া যাতে তাদের চিন্তার মর্মগত কোনো বিষয় বা মৌলিক ফেনোমেনাগুলা অধরা না থাকে।

 

ফলে এই যে, বিনিময়, প্রবহমানতা সেখানে আফ্রোএশিয়ার চিন্তার ভিত্তি থেকে বেরিয়ে আসলেই শেষ হয় না। সেখানে যতই ভিন্নতা, ব্যবধান থাকুক না কেন সেখানেই আপনি মানুষকে খোঁজে পাবেন। নানা রকম মানুষ। নানা বর্ণের মানুষ। নানা ধর্মের মানুষ। তার মধ্যেই আছে আবেগ, সংবেদনা, নান্দনিক অনুভূতি। কিন্তু আপনার বড় উপাদান হলো গণমানুষ। যা একটি একক। অভিন্ন।

 

কিন্তু এই যে মানুষ যতই ভিন্ন হোক না কেন তার যদি কোনো সামাজিক কিংবা কোনো সাংস্কৃতিক অর্থ না থাকে তাহলে এই বিনিময় বা সম্পর্কের আদতে কোনো অর্থই থাকে না। কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।

 

তাহলে এই বিনিময় সম্পর্কের অর্থ হলো আসলে একটি সাংস্কৃতিক কাঠামো গঠন করা। যার পাটাতন হবে সাংস্কৃতিক বিষয় সম্পর্কে একটা সর্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি। যেটা মানুষের বাহির ও ভেতর জগতের মধ্যে যে অঙ্গাঙ্গী সম্পর্কগুলা রয়েছে সেটাকে অভিন্ন হিসাবে দেখার চিন্তাগত সিদ্ধান্ত আকারে নেয়াকে জরুরি মনে করে। সেটা ওয়াশিংটন থেকে মস্কো কিংবা তানজানিয়া থেকে জাকার্তার মধ্যে মনুষ্য সম্পর্কের অভিন্ন মুহূর্ত তৈরি করে। কিন্তু এই যে মুহূর্ত সেটা আবার জাতিগুলার নিজেদের রাজনৈতিক আত্মপরিচয়কে মুছে দেয় না। যেটা সাংস্কৃতিক অখণ্ডতায় কোনো ছেদ ঘটায় না। আপাত এই অবস্থানকে আমরা কৌশলগ এবং নীতিগত অবস্থান আকারে নিতে পারি।

 

চীনা বিপ্লবের মধ্যে এমন একটা পরিবর্তনের ব্যাপার উপলব্ধি করা যায়। সেটা ছিল মনুষ্যের প্রাকৃতিক প্রাণ শক্তিকে উসকে দিয়ে একটা অন্ধ ও ঘোরালো সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে নতুন কালের দিকে নিয়ে যাবার প্রাণান্তকর লড়াই। এই নতুন কাল কথাটার মানে আর সবকিছুকে তার শক্তি ও পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে আসা। অর্থাৎ সটো এমন এক সময় প্রক্রিয়া যা বিবদমান সময় ও পরিস্থিতিকে নতুন করে গ্রেফতার করে এবং নতুন সময়ের খাপে ও খোপে ধরে ফেলে। কিন্তু তার এই গ্রেফতারের প্রক্রিয়া সাংস্কৃতিক উপায় ও দ্বন্দ্বকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করার মধ্য দিয়া অর্জিত হয়। ফরাসী দেশের সমালোচকরা পর্যালোচনা করে বলছেন, চীনা বিপ্লব মনুষ্যকে “নীল পিঁপড়া”র দিকে নিয়ে গেছে। কিন্তু এই মেটাফোর বা প্রতীক ব্যবহারে প্রথমে খটকা লাগতে পারে। কারণ মনুষ্যের সাথে পিঁপড়ার তুলনা অতিশয় আজব ব্যাপার। তারা ব্যাখ্যা দিয়া বলেছেন, মনুষ্য তো আর পিঁপড়া হতে পারে না। অর্থাৎ ব্যাপারটি হলো, পিঁপড়া আদতে একটা ক্ষুদ্র কীট। আর এর স্তর ঘটাবার প্রক্রিয়া হলো “নীল”। তাহলে তুলনা করার সময় দুটি প থাকে। একটা পকে পরিবর্তন করে অতিক্রম করে যেতে হয়। দেখা যাচ্ছে, পিঁপড়ার যে কীটটি ময়লা আবর্জনার মধ্যে যাপন করে আর যেটা নীল হয়ে ওঠছে এ দুটা এক জিনিস না। বপ্লিবরে আগে চীনা জাতি যখোনে ছলি তার তুলনা হল পিঁপড়া’র মত। বপ্লিবরে মধ দয়িে চীন যে নতুন সময়রে সূচনা করছেে সটোকে নীল বলা হয়ছে।ে মনুষ্যকে নীল পিঁপড়ার সাথে তুলনা করার রহস্যটা এখানেই।

 

মোটকথা ময়লা আজর্জনার মধ্যে থাকা ক্ষুদ্র কীটের যে সময় ও অবস্থা ছিল সেই সময় ও অবস্থার মধ্যে থাকছে না এই পিঁপড়া। বপ্লিবরে আগরে বরিাজমান একটা দ্বন্দ্ব ও সময় সে অতিক্রম করে যতেে সক্ষম হয়ছে। অর্থাৎ মানুষকে এই বিপ্লব এমন এক সম্ভাবনার স্তরে নিয়ে গেছে যেখানে একই সাথে সে যে অবস্থা ও সময় থেকে বেরিয়ে এসেছে কনো সে আর সেখানে ফিরে যাবে ন একই সাথে সে যে অবস্থা ও সময় থেকে বেরিয়ে এসেছে কনো সে আর সেখানে ফিরে যাবে না। এই যে এরকম অতিক্রম করার প্রক্রিয়া পণ্ডিতগণ এটাকে বিপ্লব বলে আখ্যায়িত করেন। আর তার যথার্থ রূপক হিসাবে এই প্রক্রিয়া ও তৎপরতাকে “নীল পিঁপড়া” (পিঁপড়া যখন সাংঘাতিক রকম রাগে ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠে তখন তার বর্ণ লাল থেকে নীল হয়ে ওঠে।) বলে থাকেন। এই নীল আলামতই হল সাংস্কৃতিক বিপ্লবের চি‎হ্ন। যার মধ্য দিয়া মাও জে দং এক নতুন কালের (মুহিত) খাপ তৈরি করতে সম হন। যেখানে মনুষ্য আসলে এক কীট সদৃশ অবস্থা থেকে কামালিয়াতের দিকে যাবার রাহা খুঁজে পান।     

 

তাহলে মাও জে দং এই ঘটনা কীভাবে ঘটালো? এই বিপ্লবের সামনে চীনে আরো নানা সমস্যার মধ্যে আর কী সমস্যা ছিল যেটাকে ছাড়িয়ে সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব তার সামনে প্রধান হয়ে ওঠে। একই সাথে এই দ্বন্দ্ব কি আফ্রোএশিয়ায় নাই? সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্ব যে বিপ্লবের আসল প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে সেখানে তাহলে দ্বিতীয় স্তরের সমস্যাগুলো কেন যথেষ্ঠ ছিল না এই বিপ্লবের জন্য?

 

প্রাথমিক স্তরের দ্বন্দ্বের ভেতর সাংস্কৃতিক সংকট মূূলত একটি নির্ধারণী বিষয় হয়ে ওঠে যা মানুষের জৈবিক এবং রূহানী বা সপ্রাণ শক্তির গোড়ার জায়গা। ফলে সংস্কৃতি তার ঐতিহাসিক তাৎপর্যের জায়গায় একটি বিকল্প সময়ের দিকে একটি নতুন সভ্যতার নতুন স্বপ্নের দিকে রুজু হয়ে তার রক্তাক্ত কর্তব্যকে জীবন্ত লড়াইয়ের কাছে সঁপে দেয়। এই যে সপ্রাণ সত্তার রক্তাক্ত নজরানা সেখানে সাধা আর লাল, তামাটে বা কালোর কোনো বিভাজন নাই। এই রক্তই তার সপ্রাণতার মধ্যে মুক্তি এবং ইনসাফের রাকবচ হয়ে ওঠে। এক প্রতিরোধী সত্তার অশেষ প্রক্রিয়া হয়ে ওঠে।