অনুবাদ

আরব বসন্তের সমাপ্তি, দায়েশ বা আইসিল এর উত্থান ও আগামীদিনের ইসলামের রাজনীতি (১ম পর্ব)
আরব বসন্তের সমাপ্তি, দায়েশ বা আইসিল এর উত্থান ও আগামীদিনের ইসলামের রাজনীতি (১ম পর্ব)
অনুবাদ করেছেন পাঠচক্র ডেস্ক
২০ ডিসেম্বর ২০১৫

প্রফেসর খালেদ আবু আল ফাদল

(ড খালেদ আবু আল ফাদল উমার ও আজমেরালডা আলফি ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর অফ ইসলামিক ল, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া লস এঞ্জেলস স্কুল অফ ল। তিনি  ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া লস এঞ্জেলস এর ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট এর ও চেয়ার। )

 

একসময় এটি ছিল এক সাদামাটা স্বপ্ন যা আশাহত লক্ষ বুকে প্রাণের সঞ্চার করেছিল। ১৭৯৮ সালে নেপলিয়ন মিশরে প্রথম দখলদারী কায়েমেরপর আমরা ঐতিহ্যবিহীন এক অজানা অতীতে, আত্মপরিচয় ভুলে থাকা স্মৃতিতে আর গ্লানিময় পরাজয় বরণ করে নেয়া আত্মপ্রত্যয়বিহীন চেতনার মুঠোয় বন্দি হয়ে পড়েছিলাম। তারপর এলো আরব বসন্ত! অনেকেই ধরে নিয়েছিল আরব বসন্ত এতদঞ্চলে আত্মপ্রত্যয়ের জন্ম দেবে এবং বিশ্ব-দৃষ্টি তেল আর ইসরাঈল থেকে ঘুরে যাবে। পৃথিবী হয়তোবা এক বৈষম্যমুক্ত আরব ও উগ্রতাবিহীন ইসলাম এর অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।

এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ ভোগদখলকারী পশ্চিমা কর্পোরেটের ঘনিষ্ট সহযোগীদের দুর্নীতি থেকে শুরু করে বিদেশী দখলদারিত্ব আর স্বাধিকার সচেতন মানুষের উপর দমন পীড়ন- সব অন্যায়ের বিরুদ্ধেই আরব বসন্ত ছিল সোচ্চার। আরব বসন্ত ছিল জুলুম, শোষণ, দুর্ণীতি আর দাসত্বের শৃংখল থেকে মুক্তির জাদুমন্ত্র। কিন্তু সব সম্ভাবনা অংকুরেই বিনষ্ট হলো। অকাল গর্ভপাত হলো অপার সম্ভাবনার। ক) কেন ব্যর্থ হলো আরব বসন্ত? এ প্রশ্নের উত্তর হলো পরজীবী সামরিক শাসন ও তেল বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রক নোংরা শেখতন্ত্রের জন্য গণতান্ত্রিক মধ্যপ্রাচ্য হচ্ছে বিরাট একটি হুমকি। এরা বিকাশমান নাগরিক অধিকার ও মূল্যবোধের চেতনাকে নির্দয়ভাবে ধুলিস্যাৎ করে দিতে সবসময়ই তৎপর। সভ্য জনগণের উপর এমন কতৃত্ব ও শাসন কখনোই চলেনা, চলে দাসের উপর।

কিন্তু সত্যি কথা হলো, আরব বসন্তের আপাত ব্যর্থতায় আরব, মুসলিম প্রধান ও পশ্চিমা বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজ স্বস্থির নিঃশ্বাস ফেলেছে। কেননা তথাকথিত ‘রাজনৈতিক ইসলাম’ এর আশঙ্কা এর মাধ্যমে দূর হয়েছে। এমতাবস্থায় অনেক বুদ্ধিজীবী উৎফুল্লতার সাথে রাজনৈতিক ইসলামের চূড়ান্ত মৃত্যুও ঘোষণা করে দিয়েছেন। ঔপনিবেশিক ধারাবাহিকতায় আরবের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্র মিশরে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার দোহাই দিয়ে প্রায়শই দমন পীড়ন, ইসলামী দল ও আন্দোলন নিষিদ্ধকরন এবং রাজনীতি-সংশ্লিষ্টতার আশংকায় বিকাশমান ইসলামী ভাবধারার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার পরিস্থিতি বিরাজমান।

রাবা গনহত্যা

 

এমনকি আব্দেল ফাতাহ সিসিও ফরাসী সাংবাদিকের সাথে সাক্ষাতকারে ইসলামী রাজনীতি ও সন্ত্রাসবাদকে একই পাল্লায় তুলে ধরেছেন। হামাসের ব্যপারে তার মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন রাজনৈতিক ইসলামকে যে আঙ্গিকেই বিবেচনা করা হোক না কেন তা একই জিনিস। হামাসকে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে নেতানিয়াহু সরকারের যুদ্ধাপরাধ ও চলমান অবৈধ দখলদারিত্বকে বৈধতাই দিয়ে দিলেন সিসি। মিশর, ইয়েমেন ও লিবিয়াতে বিপ্লবের সুস্পষ্ট বিরোধীতা করেছিল সৌদি আরব, কুয়েত ও আরব আমিরাত । এসব দেশগুলো বিপ্লবের মুকাবিলায় বিরোধী একটি জোট গঠন করেছিল সিসি যেন সম্ভবপর প্রতিটি ক্ষেত্রে নৈতিকতা বর্জিত ও দুর্নীতিগ্রস্থ পুরনো নীতির পুনস্থাপন করতে পারে। এরা বিদ্রোহী অঞ্চলে উচ্চাভিলাষী দুর্ণীতিগ্রস্থ সেনা অফিসারদেরকে প্রচুর নগদ অর্থের বিনিময়ে কিনে নিয়েছিল যারা দেশব্যাপী উদ্বেগ ও নৈরাজ্যকর প্রেক্ষাপট তৈরী করতে সক্ষম। এই অশুভ শক্তি সফল হলো।

স্বাধীনতা ও মুক্তি আন্দোলনের বদলে সবাই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই আর নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য মনোনিবেশ করল। বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর জনতাকে ইসলামী রাজনীতির উপর সওয়ার হয়ে অন্ধকার যুগ ফিরে আসবে এমন জুজুর ভয় দেখানো হলো। স্বৈরাচারী ও সামরিক শাসকদের এহেন বিভ্রান্তিকর বুলি যদি সত্যিই হয়ে থাকে প্রশ্ন জাগে - এসব জান্তা সরকার রাষ্ট্রকে উপনিবেশ পরবর্তীকালে প্রকৃত অর্থে কোথায় নিয়ে গেছেন? এসব রাষ্ট্রে কেমন শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় আছে যা প্রকৃত মুসলমানদেরকে হুমকির মধ্যে রাখে আর প্রিটোরিয়ান রাষ্ট্র ও শেখতন্ত্র কী এমন সুফল বয়ে আনলো যার সীমান্তে প্রতিনিয়ত একদল নিষ্ঠুর বর্বর গোষ্ঠী আরবের ক্ষমতা দখলের হুমকি দিচ্ছে? আরো মৌলিক প্রশ্ন হলো- রাজনৈতিক ইসলাম বা ইসলামী রাজনীতির প্রকৃত রূপ আসলে কী, যা্র সাথে প্রতিক্রিয়াশীলতা, অন্ধকার যুগ, বর্বরতা ও সহিংসতাকে গুলিয়ে ফেলে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে?

 

 

ভাবানুবাদঃ পাঠচক্র ডেস্ক

পড়ুনঃ দ্বিতীয় পর্ব

পাঠচক্র ডেস্ক