অনুবাদ

আরব বসন্তের সমাপ্তি, দায়েশ/ISIL এর উত্থান ও আগামীদিনের ইসলামের রাজনীতি (শেষ পর্ব)
আরব বসন্তের সমাপ্তি, দায়েশ/ISIL এর উত্থান ও আগামীদিনের ইসলামের রাজনীতি (শেষ পর্ব)
অনুবাদ করেছেন পাঠচক্র ডেস্ক
০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

প্রফেসর খালেদ আবু আল ফাদল

(ড খালেদ আবু আল ফাদল উমার ও আজমেরালডা আলফি ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর অফ ইসলামিক ল, ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া লস এঞ্জেলস স্কুল অফ ল। তিনি  ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া লস এঞ্জেলস এর ইসলামিক স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট এর ও চেয়ার। )

 

ISIL যেভাবে ইসলামকে তুলে ধরছে, আমি মনে করি তাদের আদর্শিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত্তি নিয়ে কথা বলার জন্য এটা উপযুক্ত সময়। ইতিমধ্যে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে isis এর উত্থান হয়েছে ইরাকে আল-কায়েদার ভাঙ্গনের মাধ্যমে এবং এর প্রায় কর্মকর্তারাই হচ্ছেন ২০০৩ সালে আমেরিকা কতৃক বিলুপ্ত হওয়া ইরাকী সেনাবাহিনীর সদস্য। প্রাথমিকভাবে ইরাকের দক্ষিণে শিয়া ও উত্তরে কূর্দীদের দ্বারা দখল হবার প্রতিক্রিয়াস্বরূপ দলটির আবির্ভাব হয়। ধর্মতত্ত্ব ও আইন নিয়ে প্রচলিত ওয়াহাবী কার্যক্রমের বাইরে দুইটি গ্রন্থ আল-কায়েদা ও ISIL সহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী মুসলিম দলগুলোকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সবচেয়ে বেশী প্রভাবিত করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রথমটি হলো  আবু বকর নাজী প্রণীত ‘ইদারাতুত তাওয়াহহুশ’ (“The Management of Savagery” -২০০৪) এবং দ্বিতীয়টি হলো আবু মুস’আব সুরী প্রণীত “দাওয়াতুল মুক্বাওয়ামা আল ইসলামিয়্যাহ আল আলামিয়্যাহ” (The Global Islamic Resistance Call - 2005)।

প্রথমোক্ত বইটি স্বীকৃত ধারার ইসলামী সাহিত্যের চাইতে বরঞ্চ লাল বাহিনীর ম্যনুয়াল বলেই মনে হয়। পল কেনেডী ও অন্যান্য লেখকদের রেফারেন্স থেকে বোঝা যায় এই গ্রন্থ প্রণেতা পশ্চিমা লেখালেখির সাথে ভালোভাবেই পরিচিত। আরণল্ড টয়েনবী ও স্যমুয়েল হান্টিংটনের মতো পশ্চিমা বুদ্ধিজীবীদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি ইতিহাসের একটি বিবরণ পেশ করেছেন যেখানে দেখানো হয়েছে সভ্যতার চিরায়ত দ্বন্ধ-সংঘাত, আর উত্থান-পতন। তার মতে, যখন কোন সভ্যতা ক্ষমতার চূড়ায় গিয়ে পৌছে এবং বিশ্বের উপর সর্বময় কতৃত্ব অর্জন করে তখন সেটি স্বেচ্ছায় হিংস্রতা ও নৃশংসতার কালসীমায় প্রবেশ করে। তারা যে কারো উপর যখন ইচ্ছা তখন হামলা করার এবং তাদের কতৃত্ত্বের বিরোধী শক্তিকে গুড়িয়ে দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করে। ধর্মতাত্ত্বিকভাবে খুবই ঠুনকো মানের বক্তব্যে ভরপুর এই বইটি পড়তে গেলে অনেকটা নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী গ্রুপের ম্যনুয়ালই মনে হয় যেখানে বর্ণনা করা হয়েছে বর্তমান সময়ের কতৃত্বশালী পশ্চিমা সভ্যতার সাথে দীর্ঘস্থায়ী শক্তিক্ষয়ের যুদ্ধে মুসলিম প্রতিরোধ বাহিনীর কলাকৌশল । শক্তিক্ষয়ের এই যুদ্ধের উদ্দেশ্য হলো পশ্চিমা সভ্যতাকে তার সত্যিকারের হিংস্ররূপ প্রকাশে বাধ্য করা এবং এই সভ্যতার পতন ত্বরান্বিত করা। পশ্চিমা সভ্যতাকে মানবিক আদর্শবোধের খোলস থেকে বের করে এনে সামরিক শক্তি ও নিষ্ঠুর কর্মকান্ডের উপর নির্ভরশীল হতে বাধ্য করার মাধ্যমেই এটি সম্ভব বলে তারা মনে করে।

ধর্মীয় ও আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে  আবু মুস’আব সুরী রচিত বইটি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও গভীর তাৎপর্যবহ। ১৬০০ পৃষ্টার বিশাল এই বইয়ে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে পশ্চিমা শক্তি ও অন্যান্যদের পরিচালিত ক্রুসেড ও নিরন্তর আগ্রাসী কর্মকান্ডের প্রামাণ্য বিবরণ সংকলিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এই বইয়ের দ্ব্যার্থহীনভাবে একপেশে ইতিহাসের বর্ণনা দিয়ে বলা হয়েছে মুসলিমরা সবসময়ই অসংখ্য বর্বরতার শিকার আর পশ্চিমা শক্তিই এ সমস্ত হিংস্রতা ও নিষ্ঠুরতার জন্য দায়ী।

লেখক বর্তমান মুসলিম জাতির দাসসুলভ ও পরাজয়প্রবণ মনোভাবের বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন এবং তিনি মনে করেন মুসলিম নেতৃবৃন্দ আজ তাদের পশ্চিমা প্রভুদের আজ্ঞাবহ কর্মচারীর মতো তাদের স্বার্থেই কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া তিনি মুহাম্মদ আব্দুহু (মৃত্যু-১৯০৫) ও মুহাম্মদ ইকবাল (মৃত্যু-১৯৩৮) এর মত সংস্কারকদেরকে ভন্ড ও স্বধর্মত্যাগী ঘোষণা করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, এটি করতে গিয়ে তিনি প্রায়শই পশ্চিমাদের রেফারেন্স/উৎস ব্যবহার করেছেন যেখানে এসব সংস্কারকদের ইসলামী চিন্তাধারার যথার্থতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।

এই গ্রন্থপ্রণেতার সঠিক ইসলামের ব্যাখ্যা হুবহু ওয়াহাবীপন্থীদের মতোই। তারা ওয়াহাবীদের মতোই ওয়াহাবী মতবাদ বহির্ভূত শিয়া, সুফী , যুক্তিবাদী (কালাম শাস্ত্রপন্থী) ও অন্যান্য ইসলামী ধর্মতাত্বিক উপদলগুলোর (যেমন আশ’আরীয়্যা ও মুতারিদী) বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ও ধর্মত্যাগীর অভিযোগ আরোপ করে। যদিও ওয়াহাবীরা উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিল এবং তিলে তিলে ধ্বংস করতে সহায়তা করেছিল, লেখক এই আন্দোলনের সমালোচনায় কিছুই বলেননি।   যাইহোক , তিনি ইবনে সৌদকে বিশ্বাসঘাতকতা ও ব্রিটিশের কাছে মাথা বেঁচে দেয়ার অভিযোগ করেছেন। যদিও সৌদ নিজে প্রথমদিকে ওয়াহাবীদেরকে সহযোগীতা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ইবনে সৌদ বৃটিশদেরকে ‘ইখওয়ান’ নামে পরিচিত ওয়াহাবী যোদ্ধাদের হত্যার অনুমোদন দিয়েছিলেন।

আবু মুস’আব দ্বিধাহীনভাবেই তার বিশ্বাসের কথা ব্যক্ত করেছেন যে, মুসলিম জাতির দুর্দশা থেকে মুক্তির একমাত্র সমাধান হলো সশস্ত্র বিদ্রোহ। তিনি মনে করেন পশ্চিমা ও তাদের মিত্রদের স্বার্থের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘস্থায়ী শক্তিক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমেই পশ্চিমা সভ্যতার আধিপত্য ধুলিস্যাৎ করা যাবে। অন্যান্য মুসলমানদেরকে হত্যার ব্যপারে তার কোন আপত্তি নেই কেননা তার মতে বাস্তবিকপক্ষে অধিকাংশ মুসলিমই অবিশ্বাসী। শিয়া ও অন্যান্য উপদলগুলি ইহুদী খ্রীষ্টানদের চেয়ে ভয়ংকর ও তিরস্কারযোগ্য। এছাড়া, এ ধরনের অন্যান্য উগ্রপন্থী চিন্তাবিদদের মতো তিনিও মতপ্রকাশ করেন যে বৃহত্তর সংগ্রামের জন্য বড় উৎসর্গ দরকার যার সবটুকুই প্রয়োজনের জন্য আইন (rule of necessity) দিয়ে জাস্টিফাই করা হয়।

বিশ্বের নিপীড়িত নির্যাতিত মুসলিম জাতির চরম বাস্তবতা উপস্থাপন করার পর আবু মুস’আব সুরী হৃদয়গ্রাহ্যভাবে প্রশ্ন উত্থাপন করলেনঃ এই দুর্দিনের  কার্যকর পরিবর্তনের জন্য আদৌ কোন যৌক্তিক বিকল্প পন্থা আছে কিনা? তিনি  বলেন যে, শুধু দুয়া কিংবা আধ্যাত্মিকতা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবেনা। তিনি আরো যুক্তি দেখান যে, যারা কূটনৈতিক শক্তি, জ্ঞানের শক্তি কিংবা পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তনের কথায় বিশ্বাস করেন তাদের কার্যক্রম সম্পূর্ন অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।

বিশেষ করে তিনি মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো ইসলামপন্থীদের কট্টর সমালোচনা করেছেন যারা প্রচলিত রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করে এবং গণতান্ত্রিক আদর্শ গ্রহণের মাধ্যমে মানুষের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি দেয়। আবু মুস’আব মনে করেন রাজনৈতিক প্রক্রিয়া গ্রহণ করে এবং তাতে অংশগ্রহন করে ব্রাদারহুড ইসলাম থেকে বিচ্যূত হয়ে গেছে এবং এর ফলেি তাদের সকল প্রচেষ্টা ব্যররথতায় পর্যবসিত হয়েছে। আধুনিক সময়ের সব ধরণের ইসলামী আন্দোলনের ব্যার্থতা, বিচ্যূতি, ধ্বংস ইত্যাদির চিত্র উপস্থাপন করে লেখক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, সমাধান সম্ভব দ্বিস্তরের কর্মকান্ডের মাধ্যমে-

ক) পশ্চিমা শক্তি ও তাদের তাবেদার সরকারগুলোকে শক্তিক্ষয়ী যুদ্ধে জড়িয়ে ব্যস্ত রাখা।

খ) চূড়ান্ত পর্যায়ে খেলাফত প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়া নেয়া, যা হবে বিশ্বে সত্যিকারের মুসলমানদের স্বদেশভূমি এবং সারাবিশ্বে মুসলমান ও তাদের স্বার্থের রুক্ষক শক্তি।

একটি বিষয় এই দু’টি উগ্রবাদী বইয়ে সুস্পষ্ট ও নির্ভুলভাবে বলা হয়েছে যে, তারা জাতিসংঘ কিংবা আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম নীতির কোন তোয়াক্কা করেনা যা তাদের স্বৈরাচারী শাসকদেরই স্বার্থরক্ষা করে আসছে।

এ ধরনের চিন্তাধারা একটি আত্মবিধ্বংসী গোষ্ঠীই লালন করতে পারে  যারা সব ধরনের গৌরব-গরিমা, স্বায়ত্বশাসন, আত্মপ্রাচুর্য ও আত্মপ্রত্যয় থেকে বঞ্চিত এবং হত্যাকান্ড ও নিজেরা নিহত হয়ে যাওয়ার মধ্যেই জীবনের তাৎপর্য খুঁজে পায়। নিচু শ্রেনির এবং আধুনিক সুযোগ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝেই এধরণের প্রবণতা বিদ্যমান। আরো মনে রাখতে হবে যে, এরা ইরাক ও আফগানিস্তানে এক দশক ধরে চরম বর্ণবাদী ও উগ্র বিদেশী দখলদারদের নিষ্ঠুরতার শিকার। এছাড়া ছয় দশক ধরে উদ্বাস্তু জীবন এদেরকে হতাশা ছাড়া কিছুই দেয়নি। এ থেকে সহজেই বোঝা যায় এত মানুষ কেন এই আত্মবিধ্বংসী দলে যুক্ত হলো। কিন্তু এটা আসল রহস্য রয়ে গেলো যে, এই নির্দিষ্ট দলটি আল ক্বায়েদা দ্বারা বহিস্কৃত হবার পরেও এতো দৃশ্যমান আকারে লজিস্টিক ও সামরিক সাফল্য নিয়ে দৃশ্যপটে কেমন করে আবির্ভূত হলো? এতোটা পেশাগত সাঙগঠনিক ও যোগাযোগ দক্ষতা তারা কিভাবে অর্জন করলো?

৫) আমি দৃঢ় বিশ্বাস করি যে , এই তথাকথিত খেলাফত যেভাবে হঠাৎ আবির্ভূত হয়েছে সেভাবেই উধাও হয়ে যাবে যখন এর পেছনের অপশক্তিটি আগুন নিয়ে খেলা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। কিন্তু ISIL ইতিমধ্যে বেশ সাফল্য এনে দিয়েছে তার পর্দার অন্তরালে থাকা প্রভুদের জন্য।

বিশেষ করে, ISIL অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে আরব বসন্তের উত্তাপকে ব্যার্থ করে দিয়ে, যা একসময় স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। শিয়া,সুন্নী এবং কুর্দী, তুর্কী, পার্সিয়ান এবং আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষী মেরুকরণ পুণঃস্থাপনেও তারা সফল হয়েছে। তারা ফিলীস্তিনের দুর্দশাকে আরো তীব্রতর করতে এবং নেতানিয়াহুকে পুননির্বাচিত করতেও সফল হয়েছে।

অধিকন্তু দুর্নীতিবাজ তেলবণিকদের শেখতন্ত্র ও সামরিক স্বৈরশাসকদের ক্ষমতাকে দৃঢ় করতেও ISIS কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আরব বিশ্বে তারা মধ্যপন্থী সেক্যুলার ও মধ্যপন্থী ইসলামপন্থীদের মধ্যে গভীর ফাটল সৃষ্টি করে দিয়ে গেছে। আরব বিশ্ব তাদের গভীরে প্রোথিত সত্যিকারের ইসলামী আইডেন্টিটি ও চলমান তীব্র দ্বান্ধিক অবস্থানের বিভেদরেখা মুছে না দেয়া পর্যন্ত অত্র অঞ্চলে অস্থিরতা ও অশান্তির শেষ নেই এবং এর অগ্রগতির কোন সম্ভাবনা নেই।

এই দুর্নীতিবাজ আরব নেতৃত্ব, লোভী ও বর্ণবাদী পশ্চিমা শাসকবৃন্দ, রুগ্ন-ভঙ্গুর আরব জনগোষ্ঠী, এদের প্রায় মুর্খ ও মৌলিক জ্ঞান বিবর্জিত বুদ্ধিজীবি সমাজ এবং হতাশায় উন্মত্ত নির্বোধের দল যারা নিজেদেরকে ইসলামের প্রতিনিধি মনে করে এদের প্রত্যেকেই স্বজ্ঞানে কিংবা মনের অজান্তে আরব বসন্তকে গলা টিপে হত্যা করার ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা পালন করেছে।

যদিও স্বাধীনতার স্বপ্নে বিভোর হাজারো শহীদের আত্মত্যাগে সহানুভূতি ও দুঃখ প্রকাশের ভাণ করলেও যারা প্রকৃতপক্ষে  বিব্রত হয়েছিল এখন তাদের আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই। কেননা জীবনের পরিচিত এই গতিপ্রকৃতির মতোই হুররিয়্যাহ বা স্বাধীনতা খুব স্বাভাবিক একটি বিষয়, এটি আবারো বিকশিত হবেই। এই বসন্ত আবারো জাগতে পারে; জীবন যেমন করে বিকশিত হতে পারে গ্রীস্মের অবিরাম খরতাপে, হেমন্তের অনুগত উষ্ণতায় কিংবা শীতের কাছে উত্তাপ হারানো কনকনে ঠান্ডাতেও। 

 

পাঠচক্র ডেস্ক