অনুবাদ

কুমারী মায়েরা - তামিম বারগুথী
কুমারী মায়েরা - তামিম বারগুথী
অনুবাদ করেছেন শিহান মির্জা
০৪ নভেম্বর ২০১৮

জানি না, কেন যুদ্ধের সময়ই ভালোবাসা আমাদের ওপর চেপে বসে!
তবে কি ধ্বংসস্তুপ থেকে পালিয়ে আমরা কাজলকালো চোখের দিকে ছুটে যাবো?!
দুর্যোগগুলো থেকে আমাদের দৃষ্টিগুলোকে সরিয়ে বিক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করবো?!
দ্বিগুণবেগে কি আফসোস করবো প্রেমের দরজাগুলোকে নিয়ে, যা আমাদের জন্য খোলা হয়েছিল,
কিন্তু সময় কম বলে আমরা তাতে প্রবেশ করতে পারি নি?! 
নাকি ব্যাপারটি এর চেয়েও সহজ ও সরল, অনেকটাই সহজাত?!
যুদ্ধ শিশুদের সংখ্যা কমিয়ে দেয়, আক্ষরিক ও রূপক উভয় অর্থেই,
কিন্তু, ভালোবাসা তাদের সংখ্যা বাড়ায়, আক্ষরিক ও রূপক উভয় অর্থেই।
তা আমাদেরকে শিশু করে তোলে, আমাদের জন্য শিশুর জন্ম দেয়;
আমাদের প্রবৃদ্ধি ঘটায় আর ধৈর্য্যকে করে প্রলম্বিত।
মৃত্যুর সামনে আমরা বোকা বনে যাই,
যেন মৃত্যুকে আমরা চিনিই না।
উপেক্ষা করে যাই তাকে, অথচ তার ব্যাপারে আমরা বেখবর নই।

আমরা মৃত্যুকে রাগান্বিত করে তুলি সেই বিখ্যাত নক্ষত্রের মত,
যাকে অবমানিত করার জন্য লোকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিল
প্রত্যেক প্রত্যুষে তার নাম ও কাজের ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করবে।
যখনই নক্ষত্রটি তার গতিপথ অনুযায়ী শহরের দরজাগুলোতে পৌঁছুতো,
আমরা তাকে সুধাতুম, যেন আমরা তাকে ভুলেই গিয়েছিঃ
“তোমার নামটি আবার বলতো!”
এরপর তাকে ছেড়ে দরজায় দাঁড়ানো দ্বিতীয় সলাজ অতিথিকে আমরা স্বাগত জানালাম,
প্রায় স্পষ্ট কন্ঠে যে বলে উঠলোঃ “আমার নাম ভালোবাসা।
তবে আল্লাহই ভালো জানেন।”

আমরা তো মৃত্যুর সামনে বোকা বনে যাই,
এরপর তার দিকে তেড়ে যাই এমনভাবে যেন তা অনস্তিত্বশীল।
জ্বলন্ত কয়লার ওপর নগ্ন পায়ে হেঁটে চলি আমরা
নক্ষত্ররাজির দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে;
উর্ধ্বপানে চেয়ে, নিম্নপানে নয়।
জ্বলন্ত অঙ্গারের ওপর আমরা এমনভাবে হেঁটে চলি, যদি তা আমাদের 
অনুভব নাও করে, আমরা তাকে অনুভব করি।
আর ফেদায়ীনরা টানেল দিয়ে রুটি আর অস্ত্রের সাথে
পাচার করে যায় গোলাপের তোঁড়াও।

হে কাজল ছাড়াই কাজলচোখীরা, 
হৃদয়সমূহের পুলক তোমরা যারা,
হে কুমারী মায়েরা,
হে আমাদের তরুণীরা,
তোমরা যদি জানতে তোমাদের মৃদুহাসিগুলো
আমাদের ভেতর কি এক শক্তির বিচ্ছুরণ ঘটায়!
আর তোমাদের সে কথাওঃ “একদম ভেবো না, হে চাচার ছেলে!”
তোমরা যদি জানতে কত শত্রুকে
তোমরা হারিয়ে দাও যখন তোমাদের হাতের তালুগুলোকে
আমাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য খুলে দাও,
উপশম করে দাও কত আঘাতের!
তোমরা তো যমীনের সুসংবাদ বয়ে আনা শঙ্খচিলের মত,
যখন সাগর আমাদের কখনো ডানে আবার কখনো বামে ছুঁড়ে ফেলে।
একটি ভূমির জন্য মানুষের তৃষ্ণা হয়তো
পানির তৃষ্ণার মতই।

 

 

মূল কবিতার আবৃত্তি