অনুবাদ

সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলামঃ সমৃদ্ধি থেকে পতন
সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলামঃ সমৃদ্ধি থেকে পতন
অনুবাদ করেছেন শিহান মির্জা
১৮ অক্টোবর ২০১৭

মূলঃ শায়খ ড. আহমেদ রাইসুনি, ভাইস প্রেসিডেন্ট, আল ইত্তিহাদ আল আলামি লি উলামা আল মুসলিমীন

অনুবাদঃ তারিকুর রহমান শামীম ও শিহান মির্জা

 

আজ থেকে অর্ধ শতাব্দীরও আগে তেলের প্রাচুর্য্য ও ভূ-ধর্মীয় সম্ভাবনার সুযোগে সৌদি আরব বিশ্বব্যাপী, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে, সুদূরপ্রসারী সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব অর্জন করে। আর এর কল্যাণে বিস্তৃতি ও আধিপত্য লাভ করে যেটাকে আমি বলি ‘সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলাম’। আজ অনেক ধার্মিক ব্যক্তি, দা’ঈ বা ধর্ম প্রচারক এবং ইসলামী আন্দোলনের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেকে এই সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলাম দ্বারা বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত।

এখন  প্রশ্ন দাঁড়ায় যে, সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলাম আসলে কি?

কেউ কেউ এটাকে ওয়াহাবীবাদ বলে থাকে। সৌদি নিজেকে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের অনুসারী হিসেবে দাবি করে। যদিও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের চিন্তাধারা ছিল সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলাম গঠনের ভিত্তি, কিন্তু সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলাম আসলে সেই চিন্তাধারা থেকে পরিবর্তিত এবং একটা নির্দিষ্ট পরিমাপে অপসারিত।  

কেউ কেউ এটাকে সালাফি আন্দোলন বলে থাকে। কিন্তু এটি আসলে  সালাফীবাদের বিকৃত ও গঠনগতভাবে পরিবর্তিত রূপ।

কেউ কেউ এটাকে হাম্বলিবাদ হিসেবে দেখে। কিন্তু বাস্তবে এটা  নজদের বদ্ধ হাম্বলিবাদ।

কেউ কেউ এর অনুসারীদের নব্য-জাহেরী হিসেবে চিত্রিত করেন। আসলে সৌদি ইসলাম অনেকটা নব্য-জাহেরীবাদই বটে,  তবে এটি ঐতিহ্যবাহী জাহেরীবাদ এর একটি বিকৃত সৌদিআরবায়িত রূপ।

কেউ কেউ এটাকে ইবনে তাইমিয়ার সাথে সম্পর্কযুক্ত দেখাতে চায়। যারা ইবনে তাইমিয়াকে ভালো করে জানেন, তাদের মতে, সৌদি ইসলামকে তাঁর সাথে সম্পর্কযুক্ত করার কারণে এর দ্বারা সম্মানহানী ও অবিচারের সবচেয়ে বড় শিকার ইমাম ইবনে তাইমিয়া।

অনেকে আবার সৌদি ইসলামকে ‘কঠোরপন্থা’, ‘চরমপন্থা’, ‘বেদুইনদের ফিক্বহ’, ‘পশ্চাৎপদ  ফিক্বহ’ ইত্যাদিভাবে বর্ণিত করেছেন। বাস্তবতা হল, সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলামের ক্ষেত্রে এই বর্ণনাগুলোর সবগুলোই কমবেশী খাটে। সৌদি ইসলামের গঠনের মূলেই রয়েছে এক বিশেষ ধরনের বুঝ ও ধার্মিকতা। এর উৎপত্তি হয়েছিল মরুভূমির রুক্ষতায় (সেখানকার সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সেখানকার সুনিদৃষ্ট কিছু ধর্মীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে) এবং সৌদি রিয়ালের প্রলোভন ও সামরিক হুমকীর ভিত্তিতে। আর এসব কিছুই হয়েছে সৌদ পরিবার ও এর প্রভাবের ছায়াতলে।

একাধিক যে মূলনীতি ও উৎস থেকে সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলামের উৎপত্তি ও গঠন, সেগুলোকে খোলাসা করার চাইতে আমি এখানে এর স্বতন্ত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলোর উপরই আলোকপাত করবো। এসব বৈশিষ্ট্যের কিছু কিছুর উৎপত্তি তো দুই প্রতিষ্ঠাতা শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এবং মুহাম্মাদ বিন সাউদের সময়েই হয়েছিল, আর বাকি বৈশিষ্ট্যগুলোর উৎপত্তি হয়েছে তৃতীয় সৌদি রাষ্ট্রের ছায়াতলে;  যে রাষ্ট্র মূলত মালিক  আব্দুল আজিজ ও তার বংশধরদের রাজত্ব এবং যা এখন পর্যন্ত কায়েম রয়েছে।

সৌদি রাষ্ট্রের ইতিবাচকতা, অর্জন ও ভালো দিকগুলো নিয়ে অনেক কিছুই বলা যেতে পারে যেদিকে আমি আপাতত যাচ্ছি না। আমার আলোচনা হবে বরং সৌদি ইসলামের স্বতন্ত্র নেতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়ে যা খুবই স্পষ্টভাবে একে বিশেষায়িত করেঃ

১। রুক্ষতা ও অসহিষ্ণুতা, এইগুলো হচ্ছে সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলামের সবচেয়ে সুস্পষ্ট বৈশিষ্ট্য; হোক তা চিন্তাধারায় বা ফতোয়ায় অথবা কথাবার্তায়। সাধারণ মানুষজন তো এখন ‘ওয়াহাবী’ অথবা ‘সালাফি’  পদবীদুটোকে রুক্ষতা, অসহিষ্ণুতা এবং অযৌক্তিক ধর্মীয় আনুগত্যের সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। এমনকি সৌদি সংস্কৃতিতেও এই রেওয়াজ আছে যে, কেউ কোন  বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে বলা হয় “হাম্বলীদের মত করো না”। মানে,বাড়াবাড়ি ও কঠোরতায় হাম্বালী-সালাফিদের মত হয়ো না (যদিও হাম্বালী মাযহাব এ থেকে অনেক দূরে)।

২। অন্যদের ধর্মত্যাগ, পথভ্রষ্টতা ও বিদ’আতের অভিযোগে অভিযুক্ত করার প্রবণতার উপর প্রতিষ্ঠিত একটি ধর্মীয় সংস্কৃতির ভিত্তিতে অন্যান্য মুসলিমদের সাথে ওঠাবসা ও তাদের উপর ফতোয়া জারী। সাধারণ জনগণ, মাযহাব, দল ও ব্যক্তিত্ব – কোনটাই এর আওতা বহির্ভূত নয়। এমনকি সাম্প্রতিককাল ও অতীতের বিদগ্ধ আলেমরাও সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলামের ধারকবাহকদের পথভ্রষ্টতা ও বিদ’আতের অভিযোগের তীর থেকে নিরাপদ নয়। অনেক সময় তো ব্যাপার ধর্মত্যাগের অভিযোগ পর্যন্তও চলে যায়। 

৩। নৃশংসতা ও সশস্ত্র শক্তির ওপর নির্ভরতা। হত্যা, নির্যাতন, ধরপাকড় ও অপহরণের আধিক্যের দিক দিয়ে যে দেশগুলো উপরের সারিতে আছে সেগুলোর তালিকায় সৌদি রাজতন্ত্র রয়েছে একেবারে পুরোভাগে। আর এগুলোর অনুমোদন, বৈধকরণ ও রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়েছে সৌদি পৃষ্ঠপোষণকৃত ইসলামের শায়খদের দিয়ে। এই শায়খরা সবসময়ই তাদের ফতোয়া নিয়ে তৈরী অনুগত সৈনিকের মত। আর এটাও লক্ষ্য করার মত যে, সৌদ এখন পর্যন্ত যতগুলো যুদ্ধ করেছে এবং করছে তার বেশীরভাগই মুসলমানদের বিরুদ্ধেই পরিচালিত হচ্ছে।         

৪। মুসলমানদের মধ্যে ফিতনা ও বিবাদের আগুন প্রজ্জ্বলিত করা - সৌদি ইসলামের শায়খদের অভ্যাসই হল ইসলামের ফিক্বহী, কালাম ও সূফী মাযহাবসমূহ, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেম ব্যক্তিত্বদের ঘৃণা ছড়ানো ও বিদ্বেষ উস্কে দেয়া। তাদের আর্থিক ও ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক সুবিধাদির কারণে তারা এসব ফিক্বহী ও আক্বীদাগত ঝগড়া-বিবাদ, শত্রুতা এবং ফিতনা মুসলমানদের অধিকাংশ মসজিদ, ঘর ও পরিবার পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।

৫। একদিকে সাধারণ মুসলমান ও তাদের আলেমদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা আর অন্যদিকে তাদের স্বৈরাচার ও অত্যাচারী শাসকদেরকে সহায়তা করা। সৌদি ইসলামের শায়খদের রুক্ষ ও সংকীর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করা গেলেও, তাদের এই রুক্ষতা ও সংকীর্ণতা শুধুমাত্র সাধারণ মুসলমানদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রথার বেলাতেই খাটে। কিন্তু, অত্যাচারী শাসক ও স্বৈরাচারদের বৈধতা প্রদান ও তাদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সৌদি ইসলাম চূড়ান্তভাবে সচেষ্ট। শাসকদের যেকোন কাজ, বিবৃতি, অনৈতিকতা ও বক্রতার  জন্যই তাদের কাছে ব্যাখ্যা, ওজর এবং বৈধতা পাওয়া যাবে, যতটা হয়তো শাসকরা নিজেরাও প্রত্যাশা করে না। সংক্ষেপে, সৌদি ইসলাম সাধারণ মুসলমানগণ, তাদের আলেম ও সৎলোকদের প্রতি রুক্ষ ও তাদের কঠোর প্রতিদ্বন্দী কিন্তু স্বৈরাচারী ও অত্যাচারী শাসকদের প্রতি সহনশীল, ধৈর্যশীল এবং ক্ষমাশীল।

 

পতনঃ লক্ষণ ও এর কারণসমূহ

গত শতাব্দীর অর্ধেক জুড়ে যে সৌদি ইসলাম ফুলে ফেঁপে উঠছিল, বিগত কয় বছর ধরে তা অনিশ্চয়তা, ক্ষয় ও সঙ্কোচনের একটি পর্যায়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এটি এমন একটি পর্যায়ের মধ্যে এসে পড়েছে যা অতিদ্রুত পতনের দিকে ধাবমান।  

এ পতনের লক্ষণসমূহ যদিও বেশ পরিষ্কার ও জানা বিষয়, এরপরও এর কয়েকটি উল্লেখযোগ্যঃ

১। সাধারণ সৌদিদের, বিশেষ করে তরূণদের মধ্যে সৌদি ইসলামের প্রতি এক প্রকার বৈরীভাব তৈরী হওয়া এবং এটি থেকে তাদের মুখ ফিরিয়ে নেয়া। এর একটি কারণ হচ্ছে, এর বদ্ধ, চরমপন্থী ও অতিকঠোর চিন্তার ধরন; অন্যটি হচ্ছে জুলুম ও দুর্নীতির প্রতি এর পক্ষপাতিত্ব। শিক্ষিত ও তরুণ প্রজন্ম আজ এই সৌদীধারার ইসলামী নমুনার বাইরে গিয়ে নিজেদের ধর্ম ও ধার্মিকতাকে তালাশ করছে। যারা সৌদিআরবে থাকছেন এবং সৌদিদের সাথে মেলামেশা করছেন ও তাদের কথাবার্তা শুনছেন, তাদের কাছে এটি জানা বিষয়। সৌদি আরবের মধ্যে এখন ফিক্বহী, সূফী এবং ফিক্বরী মাযহাবসমূহ আবার পুনরুজ্জীবন লাভ করছে যেগুলোকে আগে পরিপূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন ও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

২। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী সৌদি কালচারাল এটাশে ও গণমাধ্যমের বর্ণনা অনুযায়ী, সৌদি প্রকাশিত ও সম্পাদিত ও বিতরণকৃত টন টন বই পোড়ানোর ঘটনা, যেগুলোর মধ্যে ইবনে তাইমিয়াহর লিখিত বই এবং মাওসু’আহ আল দুরার আল সানিয়াহ ফি আজুবাতিল নাজদিয়া ও এধরনের কিছু বইও রয়েছে। সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ নিজেই নিজেদের কৃতকর্মের ফল নিয়ে এখন বিব্রত ও উভয় সঙ্কটে আপতিত।

৩। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাশিয়ান ২৪ চ্যানেল এর সামনে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন যে, হাজার হাজার মসজিদের খতীব ও ইমামদের চরমপন্থার জন্য তাদের নিজ নিজ পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং শিক্ষাখাত থেকে চরমপন্থা অপসারণের লক্ষ্যে রাষ্ট্র কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

এখন এই বিবৃতি ও কাজগুলোকে যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, তা একটি বিশাল ব্যর্থতা ও বিরাট দৈন্যতার দিকে ইঙ্গিত করে।

 

এই পতনের কারণসমূহের মধ্যে আছেঃ

১। একদম শুরু থেকেই আরব বসন্তের প্রতি সৌদি আরবের চূড়ান্ত রকমের বিপক্ষ অবস্থান নেয়া। সৌদিই শেষ পর্যন্ত বেন আলীকে সহায়তা দিয়ে গিয়েছে। বেন আলী ক্ষমতাচ্যুত হওয়া ও পালানোর পর সৌদি আরব তাকে আশ্রয়ও প্রদান করে। এই সৌদি আরবই হোসনী মোবারককে তার ক্ষমতাচ্যুতির আগে ও পরে উঠেপড়ে সহায়তা করে। আর এই সৌদিই আবুধাবির শাসকের সাথে মিলে মিশরের নির্বাচিত শাসক মুহাম্মাদ মুরসীর বিরুদ্ধে সামরিক ক্যু এর আয়োজন করে এবং একে অর্থায়িতও করে।

২। সুন্নী ইসলামী আন্দোলনসমূহকে রাজনৈতিক ইসলাম নাম দিয়ে আবুধাবী শাসকের সাথে মিলে এর বিরুদ্ধে শত্রুতায় ও একে সমূলে উৎপাটন করার মিশনে নামা। ব্যাপারটা এতদূর পর্যন্ত গড়িয়েছে যে, ঘোষিত ও অঘোষিতভাবে অনেক ব্যক্তিত্ব, আন্দোলন, ইসলামী দাওয়া, শিক্ষা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানকে সন্ত্রাসী ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোই আবার “ভ্রাতৃপ্রতীম ও বন্ধু” দেশ যেমনঃ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, কাতার ও তুরস্কে বিদ্যমান ও কর্মরত।

৩। সৌদি আরবের দ্বীনি ও আলেমদের প্রতিষ্ঠানসমূহের বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো। এর কারণ তাদের পরস্পরবিরোধী ফতোয়া এবং সৌদি হুকুমতের অফিসিয়াল রাজনীতির প্রতি তাদের অন্ধ আনুগত্য। এর দুটো উদ্ভট উদাহারণ হচ্ছেঃ মেয়েদের গাড়ি চালানোকে প্রথমে হারাম ঘোষণা করা, এরপর একে আবার (সৌদি সরকারের মহিলাদের গাড়ি চালানোর অনুমতি প্রদানের প্রেক্ষিতে)হালাল ঘোষণা করা এবং হারামে মক্কার ইমাম আবদুর রহমান সুদাইসের এই ন্যক্কারজনক বক্তব্য প্রকাশিত হওয়াঃ যেখানে তিনি ‘সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকে নিরাপত্তা ও শান্তির রাস্তার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে’ – এই মর্মে বিবৃতি দিয়েছেন। ‘সুদাইসের প্রশংসনীয় ও ন্যক্কারজনক বক্তব্যের ব্যাপারে অকপট দৃষ্টিভঙ্গী’ শিরোনামে ভারতের আলেমদের শাইখ আল্লামা সুলাইমান নাদভী সুদাইসের এই বিবৃতির কঠোর জবাব দিয়েছেন।

৪। সৌদি আরবের অভ্যন্তরে দমন-নিপীড়ন, নির্যাতন ও সহিংসতা আরো অধিকতর বাড়ানো; যা শুধুমাত্র আলাদা ও স্বাধীন চিন্তাভাবনার অধিকারীদের ওপরই চালানো হচ্ছে না, অনেক সময় এটি সম্পূর্ণ এলোপাতাড়ি ও অবোধগম্য আকার ধারণ করছে। সৌদি হুকুমতের অনেক আন্তরিক সহযোগী ও সমর্থকরাও গ্রেফতার হচ্ছেন। এমনকি উস্তায জামাল খাশোগজিও (সৌদি সাংবাদিক, কলামিষ্ট ও লেখক) সাম্প্রতিক বলেছেনঃ “সৌদিতে এখন কেউই নিরাপদ নয়।” উল্লেখ্য, তিনি নিজেও সৌদি রাজপরিবার ও তাদের রাজনীতির চূড়ান্ত সমর্থক ছিলেন। কিন্তু আজ তিনি নিজেও নিজের চামড়া বাঁচাতে পলাতক, কারণ একটিই আর সেটা হলঃ সৌদিতে আজকাল গ্রেফতারের না কোন সুস্পষ্ট কারণ প্রয়োজন আছে আর না তো এটি কোন জ্ঞাত যুক্তি মেনে চলে।  

 

মূলসূত্র